যবিপ্রবিতে উত্তেজনা: ফের মুখোমুখি অবস্থানে ছাত্রলীগের দুইপক্ষ

গত ৫ই অক্টোবর হলে ডাকাতির ঘটনায় বহিস্কৃত দুই শিক্ষার্থী হাইকোটের রিট করে বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় পুনরায় শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে ছাত্রলীগের অপর পক্ষ তাদের ভর্তি কায্যক্রমে বাধা দিতে লাইব্রেরি ভবনের নিচে অবস্থান করলে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ পরিস্থিতি অনুকূলে এনে দুই ছাত্রকে নিরাপদে ক্যাম্পাস থেকে বের করে আনে।

আজ ৭ ই জুলাই বহিস্কৃত দুই শিক্ষার্থী শাখা ছাত্রলীগের বিজ্ঞান ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীরা বিজ্ঞান বিভাগের মোঃ আল মামুন সিমন (রোল-১২১২০৯, সেশনঃ২০১২-১৩) ও পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক তানভীর ফয়সাল (রোল -১৩০২২২,সেশনঃ ২০১৩-১৪) তাদের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যান্তরে অবস্থান করলে শাখা ছাত্রলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক আফিকুর রহমান অয়ন, শহিদ মসিয়ূর রহমান হলের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক সোহেল রানা সহ প্রায় ২০-৩০ জন নেতাকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি ভবনের সামনে অবস্থান করে। এসময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এমন অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বডি ও পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি শান্ত করে অনুকূলে নিয়ে আসলে পরে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় তানভীর ফয়সাল ও আল মামুন সিমন কে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিরাপদে বাইরে বের করে নিয়ে যায়।

তানভীর ফয়সাল বলেন, আমার হাইকোর্টের রিট করে বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় পুনরায় শান্তিপূর্ণ ভাবে ক্লাস পরিক্ষায় অংশগ্রহনের জন্য ক্যাম্পাসে গিয়েছিলাম। এসময় অয়ন ও সোহেল রানার অনুসারীরা আমাদের ভর্তি বাতিল এবং ক্লাস পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ার জন্য বাধার সৃষ্টি করে এবং আমাদের উপর চড়াও হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা এরকম অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে এবং ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার পরিবেশ নষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি যেন সামনে আর কেউ এরকম না করে।

শাখা ছাত্রলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক আফিকুর রহমান অয়ন বলেন, সাধারন সম্পাদক শামীম হাসানের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হল থেকে সাধারন শিক্ষার্থীদের প্রায় শতাধিক ল্যাপটপ, চার শতাধিক মোবাইল ও প্রায় পাচঁ লক্ষ টাকা যারা লুট করেছে তারা । সাধারন শিক্ষার্থীরা তাদের কখনও মেনে নিবে না,আর সাধারন শিক্ষার্থীদের যৌক্তকি দাবীতে আমরা সবসময় বদ্ধপরিকর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী মধ্যে আল মামুন শিমন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় কতৃক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের যবিপ্রবির চারজন মাদক ব্যবসায়ীর অন্যতম একজন। তারা যখন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে তখন সাধারন শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের একপক্ষের অবস্থানে আমরা তাদেরকে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় নিরাপদে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিই। শিক্ষার্থী শিমন যতদিন তার মাদক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সমাধান করে আসতে পারবে ততদিন তারা ক্যাম্পাসে শিক্ষা কাযর্ক্রম চালাতে পারবে না। তবে ক্যাম্পাসে যেন কোন অরাজোক পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে আমরা লক্ষ রাখছি।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর