শনিবার সকাল ৭টা। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নের চাতল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে অন্তত ১শ গজ দূরে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী স্মৃতি আক্তার (১০) নামে একটি মেয়ে শিশু রাস্তার পাশে দাড়িয়ে বকুল ফুলের মালা হাতে নিয়ে পথচারীরের কাছে দৌড়াচ্ছেন।
বলছেন মালা কিনবেন নি মালা, বকুল ফুলের মালা। প্রতি পিস ১০টাকা। তাদের ফুল বিক্রির দৃশ্য দেখে মটরসাইকেল যুগে আরেকটু সামনে যেতেই এই প্রতিবেদককেও বলে উঠলেন একটা বকুল ফুলের মালা নিয়ে যান। শিশুটির বায়না রাখতে ১০টাকা দরে তিনটি বকু্ল ফুলের মালা কিনলেন এ প্রতিবেদক।
সিএনজি, অটোরিক্সা কিংবা মটরসাইকেল যাত্রীদের কাছে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বকুল ফুলের মালা বিক্রি করেন এই শিশুরা।
স্মৃতি আক্তার কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নের চাতল গ্রামের প্রবাসী দুলাল মিয়ার কণ্যা।
স্মৃতি আক্তার জানালেন, প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠেই সে বকুল ফুলের কলি পাশ্ববর্তী জমিদার বাড়ির বকুল গাছ থেকে ফুল সংগ্রহ করেন। সেখান থেকে বকুল ফুল সংগ্রহ করে হাতে একটি সুঁই আর সুতো দিয়ে মালা তৈরি করেন। কখনো প্রতি পিস মালা ৫টাকা, আবার কখনো ১০টাকা ধরে মালা বিক্রি করেন পথচারীদের কাছে।
সকাল ৭টা থেকে ১০ পর্যন্ত বকুল ফুলের মালা বিক্রি করে নিজের স্কুলের খরচ চালান এই শিশু। মা’র কাছে তাদের কেউও হাত পাত্তে হয় না। নিজেদের বানানো ফুল বিক্রি করেই তারা নিজেদের সামান্যতম খরচ চালাতে সক্ষম বলে দাবি এই শিশুদের।
তবে আরেকটু সামনে যেতেই দেখে মেললো আরেকটি শিশু হাতে ভেতরে ৬টি বকুল ফুলের মালা নিয়ে দাড়িয়ে আছে পথচারীদের কাছে বিক্রির উদ্দ্যেশে। সেও নাকি এভাবেই প্রতিদিন মালা বিক্রি করেন।
স্থানীয় একজন পথচারী কামাল হোসেন বলেন, আমি প্রতিদিনই এই দিক দিয়ে যাওয়া আসা করি। প্রায় সময় দেখা যায় অনেকগুলো ছেলে-মেয়ে বকুল ফুলের মালা বিক্রি করেন।
আরেকজন পথচারী মনির হোসেন বলেন, এখনকার অনেক ছেলে-মেয়েরা এই কাজ গুলো করে। আসলেই বিষয়টি খুব ভাল লাগে আমার কাছে বলেও জানান তিনি।