১৯, আগস্ট, ২০১৮, রোববার | | ৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯

নারীর খাতনা প্রথার যে রায় দিল আদালত…

আপডেট: আগস্ট ১১, ২০১৮

নারীর খাতনা প্রথার যে রায় দিল আদালত…

শতশত বছর ধরে পশ্চাতপদ সমাজের নারীরা শিকার হয়ে আসছেন এই জঘন্য প্রথার। তারপর, সেই নারীদের মধ্যে কেউ জ্বালিয়ে দিয়ে গেল আলো। তাই সঙ্কোচের শৃঙ্খল ছিন্ন করে কিছু নারীর উত্তাল কণ্ঠে কেঁপে উঠল শীর্ষ আদালতের চৌকাঠ। সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট খাতনা প্রথার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছে। এই জঘন্য বর্বর প্রথাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ভারতে।

সিংহভাগ মুসলিম সম্প্রদায় এই প্রথায় বিশ্বাস না করায় উপমহাদেশে মেয়েদের খতনা প্রচলিত নয়। আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচের কিছু দেশে এই জঘন্য প্রথা এখনও জোরেশোরে চলছে। ইউনিসেফের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০ মিলিয়নের বেশি মেয়ে এই যন্ত্রণা বয়ে চলছে তাদের শরীরে। শৈশবে যৌনতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার আগেই বিশ্বের আরও অন্তত ৩০টি দেশের মতো ভারতেও দাউদি বোহরা সম্প্রদায়ের মধ্যে শিশুকন্যার ‘ক্লিটোরিস’ বা যৌনসুখের বাহক প্রত্যঙ্গটি কেটে দেওয়ার প্রচলন ছিল।

এই ক্লিটোরিসকে তারা বলে ‘অপবিত্র মাংসপিণ্ড’। এটি কেটে ফেললে নাকি নারী হবে পবিত্র, বিয়ের জন্য আদর্শ! তাই পরিবারের নারী সদস্যদের উপস্থিতিতে মুল্লানি বা পেশাদার কাটিয়ের (যদিও এরা শল্যবিদ্যায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয়) হাতে রক্তাক্ত হয় ৬ থেকে ৮ বছর বয়সী শিশুকন্যারা।

মেয়েটিকে একটা চকলেট কিংবা সিনেমার লোভ দেখানো হয়। কিম্বা শুধুই বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার ছলনা। তার পর অন্ধকার স্যাঁতস্যাঁতে ঘরটায় হাতুড়ে কারও হাতে নারীদেহের অমোঘ যৌনসুখের জায়গাটা, যেখানে জটলা করেছে হাজার নার্ভের প্রান্তভাগ, তাকে একটা ব্লেড বা ওরকম কিছু সাধারণ জিনিস দিয়ে এক ঝটকায় কেটে ফেলা হয়।

সাথে সাথে ফিনকি দিয়ে নেমে আসে রক্ত। অসহনীয় যন্ত্রণায় কাতারাতে হয় মেয়েটিকে। আর সংক্রমণের যন্ত্রণা তো অবশ্যম্ভাবী। বিয়ের বয়স হওয়ার পর যৌনসুখ বুঝতে না পেরে শুধুই ধর্ষিত হয় সেই নারী। এর থেকে তৈরি হয় মানসিক অবসাদ। জাতিসংঘ অনেক আগেই এই জঘন্য প্রথাকে ‘মানবতার লংঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ভারতের মাসুমা রানালভির মতো যারা নিজেরাই এই ভয়ানক প্রথার শিকার হয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে দাবি তুলেছেন প্রথাটি বন্ধ করার। যেহেতু বেশিরভাগ মুসলিম এই খাতনা বা সুন্নতের রীতি মেনে চলেন না, তাই ধর্মের অজুহাত টিকবে না। তাছাড়া শৈশবেই মেয়েদের গোপনাঙ্গকে ক্ষতবিক্ষত করে তার মানসিক যন্ত্রণা ছাড়াও যৌনজীবন, এমনকী সন্তান ধারণ পর্যন্ত প্রশ্নের মুখে তুলে দেওয়ার অধিকার কারও নেই।

পিতৃতান্ত্রিক সমাজের কালো হাত, ধর্মীয় অজুহাত এমনকী ঔপনিবেশিকতাবাদের অজুহাতে নারীর শারীরিক কিংবা যৌন অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। সব দায় যেন মেয়েদের শুধু একার! বিশ্বজড়ে আজ যখন এফজিএম বা ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশনের বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার, প্রতিবাদ চলছে, তখন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এই রায় যেন নারী অধিকারের প্রতিধ্বনি তুলল। প্রমাণ হলো মেয়েদের জন্যও আসছে সুদিন।