জমি দখলের সময় ছাত্রলীগ নেতাকে গাছে বেঁধে পুলিশে দিল জনতা

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ঝাউডগী এলাকায় জমি দখল করতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে গণধোলাই দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয়রা।

পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ছাত্রলীগ নেতা মোবারক হোসেনসহ কয়েকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

অভিযুক্ত মোবারক হোসেন কুশাখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক।

ইতোমধ্যে এই ছাত্রলীগ নেতাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তোলপাড়। নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকালে ঝাউডগী এলাকায়।

নদীভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দা জহির মাঝি ও ইউসুফ হোসেন বলেন, মেঘনার ভাঙনে সব কিছু হারিয়ে এখন আমরা নিঃস্ব। বার বার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে গত ১০ বছর আগে কুশাখালীর ঝাউডগী এলাকায় এক খণ্ড জমি কিনে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন তারা।

বেশ কয়েকদিন ধরে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা ওই জমি থেকে আমাদেরকে উচ্ছেদের চেষ্টা করে এবং একাধিকবার হামলা চালিয়ে মারধর ও চাঁদা দাবি করে। গত শুক্রবার ভোরে মোবারক হোসেন ৫০/৬০জন সন্ত্রাসী নিয়ে বসতবাড়িতে হামলা চালায়।

এসময় জমি দখলের চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে ঘেরাও করে মোবারক হোসেনকে আটক করে গাছের সাথে বেঁধে রেখে পুলিশকে খবর দেয়।

মোবারক হোসেনসহ জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মোবারক হোসেন জানান, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছি। আমার সম্পত্তিতে কাজ করতে গেলে ইউনিয়ন যুবলীগের এক নেতার ইন্ধনে পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আমি রাজনীতি প্রতিহিংসার শিকার। গাছের সাথে বেঁধে রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করেন এ ছাত্রলীগ নেতা।

এদিকে কুশাখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জমিদখলের চেষ্টাকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মোবারক হোসেনসহ কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যায়। এরপর কি হয়েছে সেটা জানা নেই।

এদিকে চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. আবু তালেব জানান, ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ অপরাধ করলে, তার দায় ছাত্রলীগ নেবে না। বরং অপরাধ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো. মফিজ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধে দু-পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এ ঘটনায় মোবারক হোসেনসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে তাদের নিয়ে যায়। তারপরও বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বার্তাবাজার/এএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর