২০, আগস্ট, ২০১৮, সোমবার | | ৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯

আ.লীগকে হটাতে ‘মালয়েশিয়া মডেল’?

আপডেট: আগস্ট ১১, ২০১৮

আ.লীগকে হটাতে ‘মালয়েশিয়া মডেল’?

আওয়ামী লীগ এবং জামাতকে বাদ দিয়ে একটি সর্বদলীয় সরকার গঠনের ইশতেহার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। এই আলোচনার উদ্যোক্তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি পশ্চিমা দূতাবাস এবং সুশীল সমাজ। বিএনপিও সরকারের বিরুদ্ধে এরকম একটি নির্বাচনী চ্যালেঞ্জে যেতে চায়। তবে এক্ষেত্রে বিএনপির প্রধান শর্ত হলো খালেদা জিয়ার মুক্তি। বিএনপি বলছে, মালয়েশিয়ায় যেমন মাহাথিরের নেতৃত্বে জোট,নির্বাচনের আগেই একটি চুক্তি করেছিলেন।

যে চুক্তিতে বলা হয়েছিল, এই জোট জয়ী হলে স্বল্পোতম সময়ের মধ্যে আনোয়ার ইব্রাহিমকে মুক্ত করবে। তেমনি, বিএনপিও নির্বাচনের আগে এরকম শর্ত চায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এরকম শর্তে রাজি হলে বিএনপি এরকম একটি জোটে অংশগ্রহণ করবে। কূটনীতিক পাড়ায় সর্বশেষ এই রাজনৈতিক উদ্যোগের নাম দেয়া হয়েছে ‘মালয়েশিয়া মডেল’। উল্লেখ্য, সম্প্রতি মালয়েশিয়ার নাজিব রাজাকের দলের বিরুদ্ধে অবসরে যাওয়া মাহাথির মোহাম্মদ দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নাজিবের বিরুদ্ধে অবসর ভেঙ্গে নির্বাচনে দাঁড়ান। যে আনোয়ার ইব্রাহিমকে তিনিই উপ-প্রধানমন্ত্রীর থেকে বহিষ্কার করেছিলেন, তার সঙ্গেই জোট বাঁধেন। পরাজিত করেন তাঁর প্রাক্তন দল এবং তাঁর এক সময়ের শিষ্য নাজিব রাজাককে। মার্কিন দূতাবাস চাইছে, মালয়েশিয়ার মতো বাংলাদেশেও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে একটি জোট হোক। যে জোটে আওয়ামী লীগ ছাড়া গণতান্ত্রিক সব দল থাকুক। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি সংলাপ অনুষ্ঠানের জন্য কাজ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সুশীল সমাজের একাংশ।

রাজনৈতিক সূত্রে প্রাপ্ত খবর হলো, বিএনপি ছাড়া বাকি রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য মোটামুটি চূড়ান্ত। যুক্তফ্রন্ট ইতিমধ্যেই গঠিত হয়েছে, যুক্তফ্রন্টের বাইরে থাকা দলগুলো যেমন, গণফোরাম, বামফ্রন্টও এরকম জোটে যেতে আগ্রহী। কিন্তু যারা এরকম জোট গঠনের মুল উদ্যোক্তা তাঁরা বলছেন, বিএনপি ছাড়া এরকম জোট অর্থহীন। তাঁদের মতে, বিএনপি বাদে বাকী দলগুলোর নেতাদের সমাজে গ্রহনযোগ্যতা ও সম্মান থাকলেও ভোটের মাঠে এদের কদর নেই। এরকম উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত একজন বুদ্ধিজীবী স্বীকার করলেন, ‘ এখনও বাংলাদেশে ভোটের মাঠ আওয়ামী লীগ আর বিএনপির দখলে।’ তাঁর মতে ‘নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে হটাতে হলে সর্বদলীয় জোটে বিএনপির বিকল্প নেই। একটি সূত্র বলছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, ত্যাগ স্বীকার করে হলেও এরকম জোটে যেতে আগ্রহী। দলে তার ঘনিষ্ঠদের তিনি এর পক্ষে অনেক যুক্তি দিয়েছেন। যারমধ্যে অন্যতম হলো, বেগম জিয়ার মুক্তি। এছাড়াও ফখরুল মনে করেন, এরকম জোট করে নির্বাচন জয়ী হলে বিএনপিই হবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে মূল নিয়ন্ত্রক শক্তি।

বিএনপির একাধিক নেতা বলছেন, এখন বিএনপির মূল লক্ষ্য ক্ষমতায় যাওয়া নয় বরং ক্ষমতা থেকে আওয়ামী লীগকে হটিয়ে দেয়া। তবে, বিএনপির অনেক নেতাই মনে করেন, এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহনের একমাত্র ক্ষমতা বেগম জিয়া ও তারেক জিয়ার। এ ব্যাপারে তাদের সবুজ সংকেত এখনও পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, বিএনপির অনেকেই মনে করেন, ড. কামাল হোসেন আর যাই হোক ড. মাহাথির মোহাম্মদের মতো ক্যারিশম্যাটিক নন। তথ্যসূত্র : বাংলা ইনসাইডার