১৯, আগস্ট, ২০১৮, রোববার | | ৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯

রোববার থেকে ইএসএফে ঋণপ্রাপ্তির আবেদন শুরু

আপডেট: আগস্ট ১১, ২০১৮

রোববার থেকে ইএসএফে ঋণপ্রাপ্তির আবেদন শুরু

দেশের কৃষি ও আইটি খাতের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য পরিচালিত সমমূলধনী তহবিল ইকুইটি অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ফান্ড (ইইএফ) নাম পরিবর্তন করে এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ সাপোর্ট ফান্ড (ইএসএফ) রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে এর পরিচালনা পদ্ধতিও। আগামীকাল রোববার থেকেই উদ্যোক্তারা ইএসএফ তহবিলের আওতায় ঋণ গ্রহণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করে সংশ্লিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে।

নতুন নীতিমালায় বাংলাদেশ ব্যাংক তহবিল থেকে সাহায্য পেতে প্রকল্পের সর্বোচ্চ ব্যয় বেঁধে দিয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও কৃষিভিত্তিক খাতে সর্বোচ্চ প্রকল্প ব্যয় যদি ৮০ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা, যন্ত্রপাতিনির্ভর প্রকল্পের ক্ষেত্রে ১২ কোটি টাকা এবং আইসিটি খাতে ৫০ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা হয় তবেই ইএসএফ এর আওতায় ঋণসহায়তার জন্য বিবেচনা করা হবে। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের মূলধন ও ঋণের অনুপাত নির্ধারন করা হয়েছে ৫১ শতাংশ ও ৪৯ শতাংশ। নতুন নিয়মে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের ২৬টি উপখাতের জন্য এবং আইসিটি খাতের ছয়টি উপখাতের প্রকল্পের জন্য ঋণপ্রাপ্তির আবেদন করা যাবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ইএসএফ তহবিল থেকে উদ্যোক্তাদের ২ শতাংশ সরল সুদে আট বছর মেয়াদি ঋণসহায়তা দেওয়া হবে। কিস্তির মাধ্যমে এই ঋণের অর্থ বিতরণ করা হবে। প্রথম কিস্তির অর্থ বিতরণের পর প্রথম চার বছর গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পরবর্তী চার বছরে আটটি ষাণ্মাসিক কিস্তিতে সুদসহ ঋণের পুরো অর্থ আদায় করা হবে।

নতুন নীতিমালায় প্রকল্প বাস্তবায়নের শর্তও জুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঞ্জুরিপত্র পাওয়ার এক বছরের মধ্যে উদ্যোক্তাকে কোম্পানির অনুকূলে জমির দলিলায়ন ও তার নিজস্ব মূলধনি অংশের বিনিয়োগ সম্পন্ন করার নিয়ম সংযুক্ত করা হয়েছে নীতিমালায়। এছাড়া প্রথম কিস্তি বিতরণের সর্বোচ্চ এক বছর ছয় মাসের মধ্যে মেয়াদি ঋণের সম্পূর্ণ অংশ গ্রহণ ও প্রকল্পের পূর্ণ বাস্তবায়নও সম্পন্ন করতে হবে উদ্যোক্তাদের। নতুবা মেয়াদ পূর্তির আগেই উদ্যোক্তাকে গৃহীত ঋণ সুদসহ ফেরত দিতে হবে।

কৃষি, শিল্প ও আইসিটি খাতে উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে ২০০০-০১ অর্থবছরে প্রাথমিকভাবে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে যাত্রা করে ইইএফ। কিন্তু তহবিল গঠনের প্রায় দেড় যুগ পরও ছাড়কৃত অর্থের বড় একটি অংশ অনাদায়ী থেকে যায়। ফলে যে উদ্দেশ্যে ইইএফের যাত্রা শুরু হয়েছিল তা সফল হচ্ছিল না। এই কারণেই এবার তহবিলটি বিকল্প নামে ও বিকল্প ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলো।