২১, আগস্ট, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯

ফুটবল কন্যা শামসুন্নাহারের কিছু কথা, কিছু স্মৃতি

আপডেট: আগস্ট ১১, ২০১৮

ফুটবল কন্যা শামসুন্নাহারের কিছু কথা, কিছু স্মৃতি

অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ ফুটবলে ৯ আগস্ট পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েদের ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয় পায়। ১৪ গোল করে বাংলাদেশের মেয়েরা। এই খেলায় ময়মনসিংহের কলসিন্দুরের মেয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল দলের অন্যতম তারকা শামসুন্নাহার জুনিয়র করে ৪ গোল।

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার কলসিন্দুর ফুটবল কন্যা শামসুন্নাহার জুনিয়র একাই ৪টি গোল করে বিস্ময় সৃষ্টি করে হইচই ফেলে দেয়। এই সফলতার স্মৃতিচারণ করে সফলতার পেছনের করুণ দিনগুলোর কথা স্মৃরণ করলেন এক ডাক্তার।

তৎকালীন ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ওয়ায়েজ উদ্দিন জানান, শামসুন্নাহার জুনিয়র’র ফুটবল খেলা খাবারের অভাবে অপুষ্টিজনিত কারণে ২০১৬ সালে খেলা প্রায় অনিশ্চিত হয়ে হয়ে পরে। প্রায়ই খেলার সময় অজ্ঞান হয়ে পরে যেত। কম করে হলেও ১০ থেকে ১২ বার অজ্ঞান অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসত।

‘আমি বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ দিয়েছি। তারপর আমি কলসিন্দুর স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক মালা রানী সরকারকে শামসুন্নাহারের অপুষ্টিজনিত কারণে বার বার অজ্ঞান হয়ে পড়ার বিষয়টি জানালে তিনি শামসুন্নাহারের দৈনিক খাবারের ব্যবস্থা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন। কলসিন্দুরের ফুটবল কন্যারা দেশের জন্য বার বার জয় ছিনিয়ে আনছে। ওরা বিশ্বের বুকে দেশকে আরো উচু করে তুলবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

জন্মের পরেই মা মারা যায় শামসুন্নাহারের(ছোট)। চার বোন এক ভাইয়ের সংসার চালান বাবা মিরাস উদ্দিন কৃষি কাজ করেন। অভাবের সংসারে খাবারের কারণে শামসুন্নাহার অপুষ্টি জনিত কারণে রোগে ভোগছিল। যে কারণে ডাক্তার ফুটবল খেলার জন্য আনফিট ঘোষণা করেন বলে জানান কলসিন্দুর স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক মালা রানী সরকার।

‘পরে আমি প্রায় ৮ মাস স্থানীয় একটি হোটেলে শামসুন্নাহারের দৈনিক খাবারর ব্যবস্থা করে দেই ও আমার নিজস্ব অর্থায়নে ডাক্তার ওয়ায়েজ উদ্দিন সাহেবকে দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছি। সুস্থ হয়েই অনুর্ধ-১৫ দলে খেলার সুযোগ পেয়ে দেশের জন্য জয় ছিনিয়ে আনে।’

‘আমি নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। প্রত্যেক নারী যেন তার অধিকার নিশ্চিত করতে পারে, তাই আমি প্রায় ৮ মাস স্থানীয় একটি হোটেলে শামসুন্নাহারের দৈনিক খাবারর ব্যবস্থা করেছিলাম ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছিলাম।’

থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে পাকিস্তানকে ১৪-১ গোলে কাঁদিয়ে দিয়েছে বাংলার ফুটবল কন্যারা। বাংলাদেশের বড় জয়ে হ্যাটট্রিকসহ ৪ গোল করেছে শামসুন্নাহার জুনিয়র। তহুরা, সাজেদা ও আনাই করেছে ২টি করে গোল। মনিকা, মারিয়া, আঁখি, শামসুন্নাহার সিনিয়র করেছে ১টি করে। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ১৩ আগস্ট, প্রতিপক্ষ নেপাল।