কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কাজী নজরুল ইসলাম হলের বাবুর্চি বদলি ও ক্যান্টিন চালুর দাবিতে স্বারকলিপি দিয়েছে হলের শিক্ষার্থীরা। শনিবার বিকালে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীরা হলের প্রভোস্টের কাছে স্বারকলিপি জমা দেয়।
স্বারকলিপিতে বলা হয়, কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন যাবৎ খাবারের নিম্নমান এবং রান্নায় স্বাদহীনতাসহ নানা সমস্যায় ভুগছে। এর অন্যতম কারণ ক্যান্টিন না থাকা এবং বাবুর্চি আয়াত আলীর অপরিষ্কার, অপরিচ্ছন্ন এবং স্বেচ্ছাচারী রান্না। বাবুর্চি আয়াত আলীর বিরুদ্ধে নিয়মিত হলে অনুপস্থিত থাকা, বহিরাগতদের এনে হলে খাওয়ানো, শিক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তার এ ধরণের কর্মকান্ড নিয়ে বহুবার অভিযোগ করা স্বত্বেও কোনও সুরাহা হয়নি।
অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ক্যান্টিন চালু থাকলেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে তা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ক্যান্টিন চালু নিয়ে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। তারপর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও তাঁর প্রতিশ্রুতির কোন বাস্তবায়ন হয়নি। এমতাবস্থায় বাবুর্চি আয়াত আলীকে বদলি এবং হলে ক্যান্টিন চালু খুব প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে বলে শিক্ষার্থীরা এ গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে। এবিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীরা হলের প্রভোস্টের নিকট স্বারকলিপি জমা দেয়।
জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ এই হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা বাবুর্চি আয়াত আলীর বদলি ও ক্যান্টিন চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলো। এবিষয়ে হল প্রশাসন থেকে লিখিত অভিযোগ জানাতে বলা হলে অাবাসিক শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে হলের প্রভোস্ট বরাবর স্বারকলিপির মাধ্যমে এ দাবি জানায়।
এদিকে হলের বেশ কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই হলের সাবেক ডাইনিং ম্যানেজারদের কাছে অনেক শিক্ষার্থী ও এলাকার দোকানদার বকেয়া টাকা পায়। আর বর্তমান ম্যানেজারদের বিরুদ্ধে বাবুর্চির সাথে পরামর্শ না করে বাজার করা এবং কম খাবার দিয়ে বেশি দাম নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও হলের শিক্ষার্থীদের কোনও বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করলে ঐ শিক্ষার্থীর সাথে খারাপ আচরণ করে।
এসময় কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট কাজী ওমর সিদ্দিকী, হলের আবাসিক শিক্ষক মোঃ আবুল হায়াতসহ হলের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। স্বারকলিপির বিষয়ে হলেন প্রভোস্ট কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আমি ব্যবস্থা নেব। ক্যন্টিন চালুর দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হলের শিক্ষার্থীরা যদি তাদের নিজ নিজ হলের প্রভোস্টের নিকট আবেদন করে। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্যোগ নিয়ে ক্যন্টিন ব্যবস্থা চালু করা যাবে।
উল্লেখ্য, আগামীকাল রোরবার একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার বরাবর স্বারকলিপি জমা দিবে শিক্ষার্থীরা।