১৯, ডিসেম্বর, ২০১৮, বুধবার | | ১০ রবিউস সানি ১৪৪০

ঢাকার ২০ আসন নিয়ে চাপে বড় দুই দল

আপডেট: আগস্ট ১১, ২০১৮

ঢাকার ২০ আসন নিয়ে চাপে বড় দুই দল

একাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা জেলার ২০টি আসনেই জোট-মহাজোটে সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি। এসব আসনে দুই শতাধিক প্রার্থী জোট-মহাজোটের মনোনয়ন চাইবেন। এ বিপুল সংখ্যক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় চাপে পড়েছে রাজনীতির মাঠের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। বেশ কিছু আসনে প্রার্থী বাছাইয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে দল দুটিকে।

এসব আসনে জোট-মহাজোটের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও বেশ উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। একেকটি আসনে ক্ষমতাসীন ও সরকারবিরোধী- দুই শিবির থেকেই গড়ে চার-পাঁচজন করে সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন মহাজোট ও ১৪ দলের প্রার্থীরা। আর রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ক্ষেত্রে ২০ দলীয় জোটের শরিক প্রার্থীরাও অনেক ক্ষেত্রে পথের কাঁটা। এ অবস্থায় শেষ পর্যন্ত কে দলীয় মনোনয়ন পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার দোলাচলে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।

ঢাকার ২০টি আসনেই বর্তমানে এমপি হচ্ছেন ক্ষমতাসীন জোটের নেতারা। এ এমপিদের বিপরীতে কোনো কোনো আসনে সাত-আটজন মনোনয়নপ্রত্যাশীও মাঠে রয়েছেন। আবার নানা কারণে বর্তমান এমপিদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের আগামী নির্বাচনে দল তথা মহাজোটের মনোনয়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় ওইসব আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতাও বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে কিছু আসনে বর্তমান এমপিরা আবারও দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন- এমনটা নিশ্চিত থাকায় তাদের সমর্থক নেতাকর্মীরা স্বস্তিতে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি ও তার জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও বসে নেই। আগামী নির্বাচনে সরকারবিরোধী এই জোটের অংশগ্রহণ এখন পর্যন্ত নিশ্চিত না হলেও দল ও জোটের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ভেতরে ভেতরে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। একাধিক আসনে ২০ দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও জোটের মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে তৎপর রয়েছেন। তবে বেশ কিছু আসনে দল ও জোটের হেভিওয়েট প্রার্থী, যারা সাবেক এমপি অথবা সাবেক মন্ত্রী তাদের মনোনয়ন একরকম নিশ্চিত হয়েই আছে। বাকি আসনগুলোতে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে একাধিক নেতা তৎপর থাকায় সম্ভাব্য সব প্রার্থীই উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

আওয়ামী লীগ জোটে নানামুখী তৎপরতা :আগামী নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগসহ মহাজোটে নানামুখী তৎপরতা চলছে। বিশেষ করে রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত ঢাকাকে নিজেদের দখলে রাখতে প্রার্থিতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে চুলচেরা বিশ্নেষণ চলছে। রাজনীতির মাঠের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি ও তার মিত্ররা আগামী নির্বাচনে আসছে- এমনটি ধরে নিয়েই নির্বাচনী প্রস্তুতি চলছে।

ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে বেশ কিছু আসনের বর্তমান এমপিরা আগামী নির্বাচনেও দল কিংবা জোটের মনোনয়ন পাচ্ছেন- এটা এক রকম নিশ্চিত হয়ে আছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ আংশিক) আসনে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, ঢাকা-৮ (রমনা-মতিঝিল-পল্টন) আসনে ১৪ দলের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ঢাকা-৯ (মুগদা-সবুজবাগ-খিলগাঁও) আসনে দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী, ঢাকা-১০ (ধানমণ্ডি-নিউমার্কেট-হাজারীবাগ) আসনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা-১১ (বাড্ডা-ভাটারা) আসনে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতুল্লাহ, ঢাকা-১২ (তেজগাঁও-শিল্পাঞ্চল) আসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আসাদুজ্জামান খান কামাল, ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর-আদাবর) আসনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) আসনে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কামাল আহমেদ মজুমদার। এর পরও এই আটটি আসনে দল ও মহাজোটের একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী তৎপর রয়েছেন। ঢাকা-৯ আসনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তৎপরতা চালাচ্ছেন। আর ঢাকা-১০ একমাত্র আসন, যেখানে বর্তমান এমপি ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের বিরুদ্ধে কোনো মনোনয়নপ্রত্যাশীই নেই।

এদিকে, বর্তমান এমপিদের মধ্যে ঢাকা-৫ (ডেমরা-যাত্রাবাড়ী-কদমতলীর একাংশ) আসনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান মোল্লা, ঢাকা-৭ (লালবাগ-চকবাজার) আসনে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত (পরে আওয়ামী লীগে ফিরেছেন) হাজী মোহাম্মদ সেলিম এবং ঢাকা-১৮ (উত্তরা-খিলক্ষেত) আসনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন অসুস্থ হওয়ায় এসব আসনে এবার প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে এই আসন তিনটিতে অধিক সংখ্যক মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠে নেমেছেন। ঢাকা-৭ আসনে গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রার্থী হিসেবে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

অন্যদিকে, ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বর্তমান এমপি হলেও এখানে প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সাবেক এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান। এখানে আরেক শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা শিল্পপতি সালমান এফ রহমান। প্রার্থিতা নিয়ে এখানে আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টির দ্বন্দ্ব অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকা-২ (কেরানীগঞ্জ-সাভারের একাংশ) আসনে বর্তমান এমপি খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শাহীন আহমেদ মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়ায় দুই নেতার সমর্থকদের দ্বন্দ্ব-ফ্যাসাদে প্রায়ই সংঘাত-সহিংসতা ঘটছে। ঢাকা-৪ (শ্যামপুর-কদমতলী) আসনে বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার বিপরীতে সংরক্ষিত আসনের এমপি অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব ড. আওলাদ হোসেন এবং শ্যামপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ায় চতুর্মুখী দ্বন্দ্ব চলছে। একইভাবে ঢাকা-১৪ (মিরপুর-শাহআলী-দারুস সালাম) আসনে বর্তমান এমপি ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আসলামুল হক আসলামের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন সংরক্ষিত আসনের এমপি ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সভাপতি সাবিনা আক্তার তুহিন। এই দুই নেতার দ্বন্দ্ব-ফ্যাসাদ প্রায়ই এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সৃষ্টি করছে।

ঢাকা-১৭ (গুলশান-ক্যান্টনমেন্ট-ভাসানটেক) আসনের বর্তমান এমপি হচ্ছেন গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থনে নির্বাচিত বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) চেয়ারম্যান এসএম আবুল কালাম আজাদ। এই আসনের সাবেক এমপি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আবার বাংলাদেশ ন্যাশনাল এলায়েন্স (বিএনএ) ও তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ক্ষমতাসীন জোটের সমর্থন চেয়ে মাঠে নেমে পড়ায় প্রার্থিতা নিয়ে বিপাকে পড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

এ ছাড়া ঢাকা-৬ (সূত্রাপুর-কোতোয়ালি) আসনের বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, ঢাকা-১৬ (পল্লবী-রূপনগর) আসনের বর্তমান এমপি ও পল্লবী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা, ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে বর্তমান এমপি ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা. এনামুর রহমান এনাম এবং ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে বর্তমান এমপি ও সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এমএ মালেকের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ সমকালকে বলেছেন, দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ থেকে প্রতিটি স্তরের নির্বাচনে প্রত্যেক এলাকায় একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যার আধিক্যের পাশাপাশি আগ্রহও বেশি থাকে। এ কারণেই ঢাকার ২০টি আসনে এত বেশিসংখ্যক সম্ভাব্য প্রার্থী তৎপর রয়েছেন। তাদের মধ্য থেকেই সবচেয়ে সৎ, যোগ্য, দক্ষ ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেই আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হবে।

বিএনপি জোটে অধিকাংশ আসনে নতুন মুখ :আগামী নির্বাচনে ঢাকার অধিকাংশ আসনেই পাল্টে যেতে পারে বিএনপি ও তার জোটের প্রার্থী। এর মধ্যে বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য হলে শরিক দলগুলোকেও কয়েকটি আসন ছাড় দিতে হতে পারে দলটিকে। এর বাইরে চারটি আসনের প্রার্থী মারা যাওয়ায় সেখানে এক ধরনের শূন্যতা দেখা দিয়েছে। দুটি আসনের প্রার্থী বয়সের ভারে ন্যুব্জ। অন্য দুটি আসনের প্রার্থীরা ঢাকার বাইরে নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রস্তুতি নেওয়ায় এসব আসনেও নতুন মুখ দেখা যাবে। সব মিলিয়ে এবার ঢাকা জেলার ২০টি আসনের অন্তত ১২টিতে প্রার্থিতা পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

সংশ্নিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিএনপির জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া সফল হলে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও এই দলের মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নানকে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। অপরদিকে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকেও কয়েকটি আসনে দেখা যেতে পারে।

সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা-১ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান মনোনয়ন পেতে পারেন। তবে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাকও মনোনয়ন চাইবেন। ঢাকা-২ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান মামলা জটিলতার কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারলেও এবার তিনিই নির্বাচন করবেন।

ঢাকা-৩ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় নির্বাচন করবেন। ঢাকা-৪ আসনে গত নির্বাচনের প্রার্থী পরিবর্তন করে নতুন প্রার্থী দেওয়া হবে। ঢাকা-৫ আসনে সাবেক এমপি সালাউদ্দিন আহমেদ ছাড়া আরও অন্তত চারজন সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন। ঢাকা-৬ আসনে প্রায় নিশ্চিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার মনোনয়ন। ঢাকা-৭ আসনের সাবেক এমপি নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু মৃত্যুবরণ করায় তার স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা মনোনয়ন চাইবেন। এর বাইরে রফিকুল ইসলাম রাসেল এবং হাজী টিপু সুলতানও এ আসনে মনোনয়ন চাইবেন। ঢাকা-৮ আসনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস মনোনয়ন চাইবেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলও এখানে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

ঢাকা-৯ আসনে গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন দলের স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা। এ আসন থেকেও মির্জা আব্বাস নিজে এবং তার স্ত্রী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস মনোনয়ন চাইবেন। ঢাকা-১০ আসনে ২০০৮ সালের প্রার্থী সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুবউদ্দিন আহমদ মৃত্যুবরণ করায় আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেতে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন অসীম ও ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শেখ রবিউল আলম কাজ করছেন। ঢাকা-১১ আসনে ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এম এ কাইয়ুম চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

ঢাকা-১২ আসনে ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা সাহাবউদ্দিন, আনোয়ারুজ্জামান, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন। ঢাকা-১৩ আসনে দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। এবার প্রার্থিতা পরিবর্তন করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। ঢাকা-১৪ আসনে সাবেক এমপি এসএ খালেকের ছেলে এসএ সিদ্দিক সাজু নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। ঢাকা-১৫ আসনে উইং কমান্ডার (অব.) হামিদুল্লাহ খান মৃত্যুবরণ করায় যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। এই আসন থেকে ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

ঢাকা-১৬ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। আগামী নির্বাচনে দলের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হকও রয়েছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকায়। ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ মৃত্যুবরণ করায় এবার দলের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু ও গুলশান থানা বিএনপির নেতা কামাল জামান মোল্লা নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঢাকা-১৮ আসনের ২০০৮-এর প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল নিজ এলাকা খুলনায় নির্বাচনী প্রস্তুতি নেওয়ায় এবার বিএনপি নেতা মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর যুবদল উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর ও বিএনপি নেতা বাহাউদ্দিন সাদী নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ ছাড়া ঢাকা-১৯ আসনে সাবেক এমপি ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু এবং ঢাকা-২০ আসনে সাবেক এমপি ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান, ধামরাই উপজেলা চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিন ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদ রয়েছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকায়।

এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। তবে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নিরপেক্ষ সরকারের দাবি পূরণ না হলে আগামী নির্বাচনে যাবেন না তারা। তিনি বলেন, আগের নির্বাচনগুলোর দলের অনেক প্রার্থীই এখন বয়োজ্যেষ্ঠ, অনেকে মারা গেছেন। তাই ওইসব আসনে নতুন মুখ দেখা যাবে।