নরসিংদীর ‘লটকন’ (ভিডিওসহ)

আকরাম হোসেন নাঈম, নরসিংদী থেকে ফিরে: ‘লটকন’ আমাদের সবারই প্রিয় ফল কে না পছন্দ করে, আর ‘লটকন’ মানে নরসিংদী জেলার নাম সবার আগে আসবে কারন, নরসিংদী জেলার রায়পুরা, শিবপুর, মরজাল এসব উপজেলা ‘লটকন’ এর জন্য বিখ্যাত।

পুরো নরসিংদীর সব জায়গাই নানা ফল আর সবজির জন্য বেশ বিখ্যাত। তবে নরসিংদীর দুটি উপজেলা বেলাব ও শিবপুরে মূলত ‘লটকনের’ জন্য বিখ্যাত। তার মধ্যে বটেশ্বর, লাখপুর, আজলিতলা, উয়ারী ও মরজাল গ্রাম বেশ প্রসিদ্ধ।

‘লটকন’ ফল এখন নরসিংদীর কৃষকদের সোনালী ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। প্রায় দুই যুগ আগেও জেলার লাল মাটির আধিক্যযুক্ত শিবপুর ও বেলাব উপজেলার গ্রাম গুলোর ঝোপ-ঝাড় ও জঙ্গলে অযত্নে অবহেলায় বেড়ে উঠত এ ফলের গাছ।

‘লটকন’ ফল মূলত জুন থেকে আগস্ট—এই তিন মাস গাছে ধরে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’। অন্যান্য ফলের চেয়ে লটকনে আয়রনের পরিমাণও বেশি।

‘লটকনের’ বাগানের মালিক আব্দুল মালেক জানান, কয়েক বছর আগেও মানুষের কাছে ‘লটকন’ জংলি ফল হিসেবেই পরিচিত ছিল। কিন্ত বর্তমানে
‘লটকন’ মানুষের কাছে পছন্দের ফল।
একেক টা গাছে ৩০ থেকে ৫০ কেজি ‘লটকন’ হয় প্রতি কেজি আমরা ৬০থেকে ৭০ টাকা করে পাইকারী মূল্যে বিক্রি করছি।

সারা বছরই লটকনের চারা লাগানো যায়, তবে আমরা সাধারণত বর্ষা মৌসুমে চারা লাগাই। চারা আলাদা করে কিনতে হয় না। গাছ থেকে ‘লটকন’ পড়ে বা পাখি খেয়ে যে লটকন ফেলে দেয় সে লটকন থেকেই চারা গজায়। সে চারা লাগাই। লাগানোর চার বছর পর থেকে গাছে লটকন ধরতে শুরু করে। তবে চারা বাজারে কিনতেও পাওয়া যায়। এছাড়া খুব একটা যতন করতে হয় না লটকন গাছের। মৌসুম শেষে গাছের গোড়ায় কিছু মাটি বা গোবর দিই বলছিলেন ‘লটকন’ বাগানের মালিক আক্কাস আলী।

এ এলাকার অধিকাংশ গাছ গোড়ালি থেকে উপরের অংশের শাখা-প্রশাখায় ‘লটকনে’ জড়িয়ে আছে। দেখতে মনে হয় যেন পুরো গাছে লটকনের ফুল ফুটছে।

লটকন ফলের জন্য ময়মনসিংহ, গাজীপুর, নরসিংদী—এই তিন জেলা বেশ খ্যাত। তবে নরসিংদীর বলটকন’ আকার ও স্বাদে অন্য দুই জেলার চেয়ে বেশ বড় ও সুস্বাদু। দেশের মোট উৎপাদনের ৮০ শতাংশই উৎপন্ন হয় এই নরসিংদীতে।

ভিডিও….

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর