কুষ্টিয়ার খোকশা উপজেলায় এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার চারদিন পর গ্রাম্য সালিশে মেয়েটির কাছে প্রকাশ্যে ধর্ষণের বর্ণনা শোনা হয়েছে। এ সময় তাকে নানা ধরনের প্রশ্ন করে বিব্রত করা হয়। ঘটনার প্রকাশ্য বর্ণনার একটি ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়েও দেয় দুস্কৃতকারীরা। এতে লোকলজ্জার ভয়ে আত্মগোপনে চলে যান ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার মা। পরে সাংবাদিকদের কল্যাণে পুলিশ তাদের খুঁজে বের করে মামলা করেছে।
জানা যায়, গত ২৬ জুন উপজেলা সদরের থানাপাড়ার আমির আলীর ছেলে স্কুলছাত্র অন্তর ওই প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ করে।
এ ঘটনা জানা জানি হলে পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেয়। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গত সোমবার বিকেলে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইমরান হোসেন ও যুবলীগ নেতা আল আমিনের নেতৃত্বে গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করা হয়। সেখানে কয়েকশ’ লোকের সামনে মেয়েটির কাছ থেকে ধর্ষণের বর্ণনা শোনা হয়। অভিযুক্ত অন্তরকে কয়েকটি চড়থাপ্পড় দিয়ে ভুক্তভোগীর আপত্তি সত্ত্বেও বৈঠক শেষ করা হয়।
এদিকে ধর্ষণের বর্ণনা দেওয়ার একটি ভিডিও এলাকায় বিভিন্নজনের মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে লোকলজ্জায় এবং ভয়ে গা ঢাকা দেয় ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার মা।
পরে সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি জানতে পেয়ে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মেয়েটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। পুলিশ মামলার একমাত্র আসামি অন্তরকে গ্রেফতার করে সেফ হোমে পাঠিয়েছে। তবে প্রকাশ্যে ধর্ষণের বর্ণনা নেওয়া ও এর ভিডিও ধারণের ঘটনায় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে পৌর কাউন্সিলর ইমরান হোসেন বলেন, এলাকার কাউন্সিলর হিসেবে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তবে সালিশ করেছে মেয়ের ভাই ও অন্যরা। যুবলীগ নেতা আল আমিন বকুল বলেন, তিনি সালিশে মেয়ের এক ফুপাতো ভাইকে হামলার হাত থেকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন। প্রকাশ্যে সালিশ ও জনসম্মুখে ধর্ষণের বর্ণনা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, মামলাটি পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। একমাত্র আসামি বয়সে কিশোর হওয়ায় তাকে সেফ হোমে রাখা হয়েছে।
বার্তাবাজার/এএস