অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধ মহিলাকে মারধর করলেন ইউপি চেয়ারম্যান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এক বৃদ্ধা নারীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটেছে। জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য অতিরিক্ত টাকা চাওয়ার প্রতিবাদ করায় ওই নারীকে মারধর করেন চেয়ারম্যান মোঃ মনির হোসেন।

ভূক্তভোগী ওই নারী হলেন উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের আলমগীর চৌধুরীর স্ত্রী আসমা বেগম (৫৮)। বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে সোমবার রাতে তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ ও ভূক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, আসমা বেগম গত ৩ মাস ধরে তার বিদেশগামী ছেলের জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হচ্ছেন। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে চেয়ারম্যান তার কাজটি করে দিচ্ছে না। এজন্য তিনি ছেলেকে বিদেশেও পাঠাতে পারছেন না। সোমবার দুপুরে আসমা বেগম আবারও ছেলেকে নিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে যান। জন্ম নিবন্ধনটি সংশোধন করে দেওয়ার জন্য চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করেন।

এসময় চেয়ারম্যান তার কাছে ৫ হাজার টাকা দাবী করেন। আসমা বেগম এত টাকা চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে চেয়ারম্যান উত্তেজিত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যান আসমা বেগমকে স্বজোরে থাপ্পর দিলে তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। পরে চেয়ারম্যান তাকে কয়েকটি লাথি মেরে ডান পায়ে ও কোমরে আঘাত করে। এসময় উপস্থিত লোকজন তাকে চেয়ারম্যানের কবল থেকে রক্ষা করে।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে আসমা বেগম বলেন, ছেলের জন্মনিবন্ধন সংশোধনের জন্য ৩ মাস ধরে মনির চেয়ারম্যানের পেছনে ঘুরতেছি। তিনি আজ না কাল বলে আমাকে ঘুরাইতেছে। একদিন আমাকে হাতের ৫ আঙ্গুল দেখিয়ে ইশারায় টাকা দাবী করেন। আমি তাকে ৫ শ টাকা দিলে তিনি উত্তেজিত হয়ে টাকা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে আমাকে তাড়িয়ে দেন।

সোমবার দুপুরে আবারও আমি চেয়ারম্যানের কাছে যাই। তখন তিনি আমার কাছে ৫ হাজার টাকা চায়। আমি বলি এত টাকার কি দরকার। লোকজন তো দেখি ৪/৫ শ টাকা দিয়ে নিবন্ধন করে নেয়। এ কথা বলার সাথে সাথে চেয়ারম্যান আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন। আমি প্রতিবাদ করলে তিনি আমাকে থাপ্পর মেরে ফেলে দিয়ে পা দিয়ে লাথি মারতে থাকেন। পরে লোকজন আমাকে উদ্ধার করে। তিনি বলেন, লাথির আঘাতে কানে ও বুকে ব্যাথা পেয়েছি। কোমরের ব্যাথায় উঠতে বসতে পারি না।

আসমা বেগমের ছেলে সাব্বির চৌধুরী বলেন, আমি আম্মার সাথে চেয়ারম্যান অফিসে গিয়েছিলাম। আম্মা কথা বলার জন্য চেয়ারম্যানের রুমে যান। আমি পাশের রুমে বসে ছিলাম। হঠাৎ আম্মার চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখি চেয়ারম্যান আম্মাকে এলোপাথারি লাথি মারতেছে। পরে আম্মাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিয়েছি।
এ ব্যপারে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য মোঃ মোরশেদ আলম বলেন, আমি অফিসে গিয়ে দেখি আসমা বেগম সচিবের রুমে বসে কাঁদতেছে। আমাকে দেখে তিনি জানান চেয়ারম্যান তাকে মারধর করেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মনির হোসেন এ অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে আর কোন কথা না বলে ফোন রেখে দেন।

আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আক্তার বলেন, আসমা বেগম অফিসে এসে আমাকে জানিয়েছেন মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাকে মারধর করেছে। আমি সাথে সাথে চেয়ারম্যান সাহেবকে ফোন করে বলেছি ওই মহিলার কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য।

কোন সেবা প্রত্যাশির সাথে তিনি এরকম আচরণ করতে পারেন না। ওনি এটা ভুল করেছেন। কাউকে আঘাত করার অধিকার তার নাই। কাজটি তিনি ঠিক করেনি।

হাসান মাহমুদ পারভেজ/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর