বিএনপির ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে লক্ষাধিক মামলা হয়েছে বলে কিছুদিন আগেই জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এবার জানা গেল ১ লাখ ৭ হাজার মামলায় বিএনপির ৩৫ লাখ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত এসব মামলা হয়।
সর্বশেষ চন্দ্রিমা উদ্যানে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় ৩৫টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় বিএনপির কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি মামলার আসামি বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল। তার বিরুদ্ধে ২৫৭টি মামলা রয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রয়েছে ৩৪টি মামলা। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রয়েছে ৬৭টি।
এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে রয়েছে ৮৬টি মামলা। এই ৮৬টি মামলার ৩৫টি উচ্চ আদালত স্থগিত করেছে। তবে সরকার এই স্থগিত মামলাগুলো আবার চালুর চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।
বিএনপির দফতর সূত্র জানিয়েছে, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমানের বিরুদ্ধে ১২৩টি, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে ১৩৪টি, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর বিরুদ্ধে ১৫৩টি, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর বিরুদ্ধে ১০৭টি, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বিরুদ্ধে ১৩৪টি, গয়েশ্বর রায়ের বিরুদ্ধে ৫৯টি এবং মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ৫৪টি মামলা হয়েছে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ১১টি, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে ৪টি, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার বিরুদ্ধে ৬টি, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১৩টি, সেলিমা রহমানের বিরুদ্ধে ৬টি, নজরুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে ৩টি, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বিরুদ্ধে ৯টি এবং ভারতের শিলংয়ে থাকা সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা রয়েছে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে ৪টি, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরের বিরুদ্ধে ৪টি, মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে ২৮টি, আবদুল আউয়াল মিন্টুর বিরুদ্ধে ৬টি, অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে ২৪টি, আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৬টি, আবদুল্লাহ আল নোমানের বিরুদ্ধে ৪টি, বরকতউল্লা বুলুর বিরুদ্ধে ২৭টি, আবদুস সালামের বিরুদ্ধে ৩৭টি, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের বিরুদ্ধে ১৩টি, মিজানুর রহমান মিনুর বিরুদ্ধে ৩৭টি, জয়নুল আবদীন ফারুকের বিরুদ্ধে ২৩টি, মজিবর রহমান সরোয়ারের বিরুদ্ধে ৫৭টি এবং খায়রুল কবীর খোকনের বিরুদ্ধে ৫৭টি মামলা রয়েছে।
এছাড়া আসাদুল হাবিব দুলুর বিরুদ্ধে ৫৭টি, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরবের বিরুদ্ধে ৮৬টি, স্বেচ্ছাসেবক দল সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূইয়া জুয়েলের বিরুদ্ধে ৫৩টি, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফের বিরুদ্ধে ৪৭টি ও ঢাকা মহানগরী উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব ফুটবলার আমিনুল হকের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে।
জানা গেছে, বিএনপি নেতাদের এসব মামলা দেখাশোনার জন্য বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের একটি সেল গঠন করা হয়েছে। একইসঙ্গে মামলার হিসেব রাখার জন্য দলের দফতর শাখার পৃথক আরেকটি সেল করা হয়েছে।
বার্তা বাজার/নব