১১, ডিসেম্বর, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ২ রবিউস সানি ১৪৪০

অন্ধত্ব নিবারণে সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ

আপডেট: আগস্ট ১০, ২০১৮

অন্ধত্ব নিবারণে সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ

বর্তমান সরকার চোখের চিকিৎসা সেবা জনগণের দারগোড়ায় পৌছে দিতে অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। চক্ষু চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সেবা পৌছে গেছে দেশের প্রতিটি জেলায়। এবার উপজেলায় পর্যায়েও চক্ষু চিকিৎসা সেবা পৌছে দিতে যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় প্রত্যন্ত উপজেলায় পর্যায়েও মানুষ সর্বাধুনিক চক্ষু চিকিৎসা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে গোপালগঞ্জের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ২০ টি উপজেলায় আধুনিক চক্ষু সেবা কার্যক্রম চালু হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী এই সেবা চালু হবে।

জানা গেছে, সরকারের সফল উদ্যোগ কমিউনিটি ক্লিনিকের মডেলে গোপালগঞ্জসহ ৮ টি জেলার ২০ উপজেলায় চক্ষু সেবা কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে দুজন করে নার্স থাকবেন। এই নার্সরা চক্ষু সেবা ও আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনায় বিশেষ পারদর্শী। এদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে দেশে এবং ভারতের বিশ্বখ্যাত অরবিন্দ আই কেয়ার হাসপাতালে। এই প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নার্সরা চক্ষু সেবা কেন্দ্রে থাকা বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সেখানে আসা উপজেলার রোগীদের চক্ষু পরীক্ষা করবেন। চক্ষু সেবা কেন্দ্রে সর্বাধুনিক অডিও-ভিজুয়াল যন্ত্রপাতি থাকছে। এর মাধ্যমে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে থাকা বিশেষ চক্ষু চিকিৎসা টিমের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ করা যাবে। চিকিৎসরা সরাসরি একজন রোগীকে দেখতে এবং কথা বলতে পারবেন। নির্দিষ্ট সমস্যা জানতে পেরে প্রেসক্রিপশন তাঁরা দেবেন। চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশন প্রিন্ট হবে উপজেলার চক্ষু সেবা কেন্দ্রে। সেখানে থাকা নার্সরা রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ এবং চশমা দেবেন।

এই উদ্যোগের অন্যতম দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক খ্যাতনামা চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. দ্বীন মোহাম্মদ নূরুল হক বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, চক্ষু চিকিৎসকরা জেলা পর্যন্ত যান, উপজেলা পর্যায়ে যেতে চান না। কিন্তু উপজেলা পর্যায়েও চক্ষু চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। এজন্যই উপজেলা চক্ষু সেবা কেন্দ্রের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে নার্স হিসেবে নিয়োগ দেওযা হয়েছে স্থানীয়দের। ভারতের বিশ্বখ্যাত অরবিন্দ আই কেয়ার হাসপাতালের সঙ্গে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সহায়তা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক হয়েছিল। তাই বিশ্বখ্যাত অরবিন্দ হাসপাতালে এই নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আর বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বিশাল হলরুম নিয়ে সেখানে আধুনিক অডিও ভিজুয়াল যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে সার্বক্ষনিক ৫-৬ জন চক্ষু চিকিৎসক রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিটিআরসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহায়তায় উচ্চগতির ইন্টারন্টে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তাই উপজেলা পর্যায়ের রোগীদের ভিডিওতে সরাসরি দেখবেন এবং অডিওতে কথা শুনবেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বসেই।

ডা. দ্বীন মোহাম্মদ নূরুল হক আরও বলেন, চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী নার্সরা রোগীদের সেবা দিবেন। আর কোনো রোগীকে যদি ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে নিয়ে আসতে হয় সেক্ষেত্রে নার্সরা রেফার করবে এবং সে অনুযায়ী বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে তাঁদের ভর্তি করা হবে। বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পাবেন উপজেলা থেকে আসা এই রোগীরা।

জানা গেছে, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উপজেলা পর্যায়ে চক্ষু সেবা কেন্দ্রের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে উপজেলা চক্ষু সেবা কেন্দ্র। আর এই সেবা চলু হলে তা হবে বাংলাদেশে চক্ষু সেবায় এক মাইলফলক।