রাজশাহীতে ১১ বছর পূর্বে পরিকল্পিতভাবে কলেজ ছাত্র রাজু আহমেদ হত্যা মামলায় ৫ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল। মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক অনুপ কুমার এই রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলো- নগরীর দড়িখড়বোনা এলাকার আজিজুর রহমান রাজু, সাজ্জাদ হোসেন সাজু, রিংকু ওরফে বয়া, দুর্গাপুর উপজেলার ইসমাইল হোসেন ও বাগমারা উপজেলার মাহাবুর রশীদ রেন্টু। এই মামলার অপর ৯ আসামীকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত। এছাড়া সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু জানান, নিহত রাজুর বাড়ি বাগমারা উপজেলার হাসনিপুর গ্রামে। মাদারীগঞ্জ বাজারে তার বাবা এসার উদ্দিনের একটি স্বর্ণের দোকান ছিল। আসামি মাহাবুর রশীদ রেন্টুর সঙ্গে রাজুর পরিবারের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে মাহাবুর রশীদ রেন্টু তার সহযোগিদের নিয়ে গিয়ে রাজুর দোকানে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে।
চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় স্বর্ণের দোকানে ভাঙচুর চালায় তারা। এ ঘটনায় রাজু বাদি হয়ে মামলা করেন। মামলার পর থেকে রাজুকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলো আসামীরা। একপর্যায়ে রাজু গ্রাম থেকে পালিয়ে রাজশাহী নগরীতে আশ্রায় নেয়।
আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু আরও জানান, নগরীর মুন্নাফের মোড় এলাকায় এক বন্ধুর সঙ্গে মেসে থাকতেন রাজু। এরপর রাজুকে রাজশাহী শহরে হত্যার পরিকল্পনা করে আসামীরা। তাদের পরিকল্পনায় ২০১০ সালে ১৫ মার্চ রাজুকে নিউমাকের্ট এলাকা থেকে প্রথমে অপহরণ করার চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে সেখানেই ছুরিকাঘাত করে রাজুকে হত্যা করে। সে সময় রাজু রাজশাহী জেলার দুর্গাপুরের দাওকান্দি ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।
রাজু হত্যার ঘটনায় পরদিন তার বাবা এসার উদ্দিন বাদী হয়ে বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনকে আসামী করা হয়। এর মধ্যে একজন মারা গেছেন। ১৪ আসামীর মধ্যে আদালত পাঁচজনের ফাঁসি ও নয়জনকে খালাসের আদেশ দেন। মামলায় ৫৮ জন স্বাক্ষীর মধ্যে ৩১ জনের স্বাক্ষ গ্রহণ শেষে এই রায় দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা সবাই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মাহাবুল ইসলাম/বার্তা বাজার/টি