স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ঢাকা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সার্বিক তত্বাবধানে সাভার ও ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমন্বয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে দুইদিন ব্যাপী করোনার টিকা প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন হয়েছে।
সোমবার (১১ অক্টোবর) জাবির ওয়াজেদ মিয়া গবেষণাগারে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রীনা ফ্লোরা।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. বেলাল হোসেন, ইপিআই এর লাইন ডিরেক্টর, ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান, সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদা, এমওডিসি ডা. মো. আরমান আহমেদ প্রমুখ সহ স্বাস্থ্য সহকারীবৃন্দ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রীনা ফ্লোরা জানান, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমাদের এ কার্যক্রম হাতে নেওয়া।
যেসব শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করে ক্ষুদে বার্তা পেয়েও এখন পর্যন্ত টিকা নিতে পারেননি, তাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ওয়াজেদ মিয়া গবেষণাগারে ৬টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি ও শৃঙ্খলা মেনে যাতে কার্যক্রম চলে সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মোট দুইদিন এই কার্যক্রম চলবে উল্লেখ করে . মীরজাদী সেব্রীনা ফ্লোরা আরও জানান, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যারা রেজিস্ট্রেশন করে এখনও টিকা নিতে পারেননি, তাদের আগে দেওয়া হবে। পরের ধাপে যারা প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাদের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
পরে মীরজাদী সেব্রীনা ফ্লোরা সিএমএইচ এ টিকা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
এই টিকা কার্যক্রমে সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ওয়াজেদ মিয়া গবেষণাগারের পরিচালক ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এ মামুন। তিনি বলেন, সকাল ১০টা থেকে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলবে দেড়টা পর্যন্ত। শিক্ষার্থীদের অবশ্যই হল থেকে প্রভোস্টের স্বাক্ষরিত ফরম নিয়ে আসতে হবে। তবে যাদের জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নেই, তারা টিকা নিতে পারবেন না।
প্রসঙ্গত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত ১২ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীর তথ্য পাওয়া গেছে। এতে ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী ২ ডোজ টিকা নিতে পেরেছেন। ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী ১ ডোজ পেয়েছেন এবং ২১ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো ডোজই পাননি। প্রায় ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় টিকা নিতে পারেননি।
মোঃ আল মামুন খান/বার্তা বাজার/টি