বঙ্গবন্ধুর ছবি ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কারসহ নানা অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে

জাতির পিতার ছবি ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় দিবস পালন না করা, মুজিব বর্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন আয়োজন না করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে শেরপুরের কামারের চর কলেজ অধ্যক্ষ দিদারুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

এসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ ওই কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস কলেজের সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের।

তথ্যমতে, শেরপুর সদরের ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে চরা লে উচ্চ শিক্ষার জন্য ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি। প্রতিষ্ঠার তিন বছর পর ১৯৯৫ সালের ৬জুন অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন মো. দিদারুল ইসলাম। কলেজ পরিচালনায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে প্রতিষ্ঠার তিন বছর পর ১৯৯৫ সালের ৬জুন অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন মো. দিদারুল ইসলাম। কলেজ পরিচালনায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ২০১০ সালে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে কলেজের গভর্নিং বোডি। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে নিজেই পদত্যাগ করেন অধ্যক্ষের পদ থেকে।

সাত বছর আইনী লড়াইয়ের পর ২০১৬সালে কলেজে দায়িত্ব নিয়েই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ শিক্ষকদের সাথে অসদাচরণ, উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষকদের বর্ধিত বেতন ভাতা স্থগিত, কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে মারধর, শিক্ষার্থীদের রেজিষ্ট্রেশনের অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগে ক্ষুব্ধ কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সরকারি কোন নির্দেশনা অনুযায়ী কোন জাতীয় দিবস পালন করা হয় না কলেজে। এমনকি মুজিব শতবর্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষেও কোন আয়োজন করেননি অধ্যক্ষ দিদারুল ইসলাম।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২০সালে এইচএসসি অটোপাশের শিক্ষার্থীদের রেজিষ্ট্রেশনের টাকাও ফেরত দেননি অধ্যক্ষ। টাকা চাইতে গেলে উল্টো নানা টালবাহানা করেছেন তিনি। শিক্ষকরা বলছেন, ২০২০সালের ২৫৩জনের রেজিষ্ট্রেশনের চার লাখ ৯২হাজার চারশ টাকার মধ্যে এক লাখ ছয় হাজার ৯৩২টাকা নিজের কাছে রেখেছেন অধ্যক্ষ। এদের মধ্যে দুই শিক্ষার্থীর টাকা দেয়ার পরেও রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করতে না পারায় উত্তীর্ণ হতে পারেন নি।

কলেজের বাংলা বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক নুরুল আমিন বলেন, কলেজ গভর্নিং বর্ডির সিদ্ধান্ত না মেনে ভুয়া রেজুলেশন তৈরী করে বর্ধিত বেতন ভাতা বন্ধ রেখেছেন অধ্যক্ষ দিদারুল ইসলাম। একাধিকবার অনুরোধ করেও কোন ফল পাননি তিনি। একই অভিযোগ ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক ফরিদ উল্লাহর। তারও তিনটি ইনক্রিমেন্ট জোর করে বন্ধ রেখেছেন অধ্যক্ষ। কলেজে কোন জাতীয় দিবসের নির্দেশনা মানা হয়না বলেও জানিয়েছেন তারা।

এছাড়া সরকারি নির্দেশনা অমান্য, মুজিব বর্ষের ড্রপ ডাউন ব্যানার প্রদর্শন না করা, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে স্মারক বৃক্ষরোপণ না করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে একাধিকবার শো-কোজ করলেও বহাল তবিয়তেই রয়েছেন অধ্যক্ষ দিদারুল ইসলাম।

যদিও সব অভিযোগ অস্বিকার করেছেন অধ্যক্ষ নিজে। কলেজে সংবাদ সংগ্রহের সময় বাক বিতন্ডায় জড়ান গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে। তিনি বলেন, কিছু শিক্ষক নিজের ফায়দা নেয়ার জন্য মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তার বিরুদ্ধে এসব কথা ছড়াচ্ছেন।

এদিকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অধীনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন কলেজের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তের পর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রশীদ।

২০০৪ সালে এমপিও হওয়া এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের সকল অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী বিক্ষুব্ধ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের।

বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর