উখিয়া বিএনপি নেত্রীর স্বামী নৌকার মনোনয়ন পেতে মরিয়া!

আগামী ১১ই নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়নের জন্য দৌড় ঝাপ শুরু করেছেন সাবেক বিএনপি নেত্রী ছেনুয়ারার স্বামী আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী জাফর আলম চৌধুরী। এই নিয়ে রাজাপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে বিরুপ প্রতিক্রিয়া।

জানাযায়, ২০০৮ সালে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজের স্ত্রী ছেনুয়ারা বেগমের হয়ে প্রচারণায় অংশ নিয়ে চাকরিবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানো নোটিশ পান তৎকালীন হিসাব রক্ষণ বিভাগের দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) জাফর আলম চৌধুরী।

সেবার নির্বাচনে জাফরের স্ত্রী কক্সবাজার জেলার তালিকাভুক্ত রাজাকার, একাত্তরে শান্তি কমিটির নেতা হাছান আলী মাস্টারের কন্যা ছেনুয়ারা পরাজিত হলেও ২০১৪ সালের নির্বাচনে আবারো সরাসরি বিএনপির দলীয় সমর্থনে আওয়ামী লীগ সর্মথিত প্রার্থী খুরশিদা করিমকে পরাজিত করে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

তৎকালীন উখিয়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহ সভাপতি ছেনুয়ারা বেগম ভাইসচেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের স্বামীর কূটকৌশলে চক্রান্ত করে সে সময়ের বিএনপি সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান বর্তমান উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরোয়ার জাহান চৌধুরী ও ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ চৌধুরী কে স্বপদ থেকে সরিয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন

উখিয়া উপজেলার বিএনপি নেতাকর্মীদের মুখে তিনি বিশ্বাসঘাত হিসেবে পরিচিত। এ প্রসঙ্গে উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরোয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, আমার রাজনীতির ইতিহাসে ছেনুয়ারার মতো প্রতারক আর দেখিনি। সে ও তার স্বামী কোন দলের জন্য নিরাপদ নয়।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবী, জাফর আলম চৌধুরী কখনোই আওয়ামী লীগের কোন পদে ছিলেন না, তিনি উড়ে এসে জুড়ে বসতে চাইছেন।

এদিকে, জাফর আলম আওয়ামী লীগের কোন পদে না থাকলেও নিজেকে পরিচয় দিতেন আওয়ামী লীগের সমমনা বলে কথিত ভূইফোড় একটি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে। এছাড়াও তিনি উখিয়া পৌরসভা বাস্তবায়ন পরিষদ, পরিবেশ আন্দোলন সহ নামসবর্স্ব সাংগঠনিক কার্যক্রম বিহীন ডজন খানেক সংগঠনের নেতা।

বয়সের তারতম্য থাকলেও ক্ষমতার দাপটে “দরখাস্তবাজ” নামে পরিচিত জাফর বিএনপির আমলে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট ভুক্ত হন। মুক্তিযোদ্ধা লীগের জেলা সভাপতি পরিচয়ে বায়োবৃদ্ধ ব্যক্তিদের টার্গেট করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট ভুক্ত করার প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও আছে জাফরের বিরুদ্ধে।

উখিয়া উপজেলার এক মুক্তিযোদ্ধা জানান, ” আমার জানামতে জাফর কখনো সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়নি।কিন্তু কিভাবে সে গেজেট ভুক্ত হলো তা আসলে খতিয়ে দেখা দরকার।

এসব বিষয়ে জানতে চেয়ে জাফরের সাথে বারবার যোগাযোগ করা হলে একপর্যায়ে তিনি মুঠোফোনে বলেন- মনোনয়নের জন্য ঢাকায় আছি এখন কথা বলা সম্ভব না বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর