গুরুদাসপুর উপজেলা পৌরসদরসহ বিভিন্ন বিলে পোষা বক দিয়ে ফাঁদ পেতে বুনো বক শিকার করছে এক ধরনের কৌশলী শিকারিরা। পরে এসব বক প্রকাশ্যে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করছে। প্রচলিত আইনে পাখি শিকার দন্ডণীয় অপরাধ জেনেও তা থেকে বিরত থাকছে না তারা।
শনিবার ভোর ৫ টায় পৌর সদরের দুখা ফকিরের মোড় নামক এলাকার একটি বিলে বক শিকার করতে দেখাযায় চাঁচকৈড় বাজারের ফ্লাক্সিলোড ব্যবসায়ী শাহিন আলম, একই এলাকার শফিক, রাকিব হোসেন ও হান্নানকে। প্রতিদিন প্রায় ১০০-২০০টি বক শিকার করে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেক ব্যক্তি জানান। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন মাঠে একাধিক শিকারিরা নির্বিঘেœ বক শিকার করছে। এখনও পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ দেখাযায়নি প্রশাসনের।
গুরুদাসপুর পৌরসদরসহ চলনবিলে বর্ষার শেষ ভাগে বক শিকারিদের আনাগোনা চোখে পড়ে বেশি। উপজেলার নাজিরপুরের গুপিনাথপুর বিল, পৌরসদরের বিভিন্ন মাঠ, ব্রামনবাড়িয়ার বিল, হাড়িভাঙ্গা বিলসহ বেশ কিছু বিলে শিকারিরা নানা ধরনের ফাঁদ পেতে বকসহ বিভিন্ন ধরনের পাখি শিকার করছে।

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান,‘ বক ধরার জন্য এক প্রকার ফাঁদ পাতে। বাঁশের ছোট বানা বৃত্তাকার করে মাটিতে পুঁতে দেয়। এর ওপরের অংশ কলা ও খেজুরের পাতায় ঢেকে দিয়ে পোষা বকগুলো ফাঁদের ওপর বেঁধে রাখে। পরে তা জলাশয়ের পাওে ও ধানের জমিতে স্থাপন করে ভেতরে লুকিয়ে থাকে শিকারীরা। পোষা বকের ডাক শুনে বুনো বকেরা আসে। তখন তারা কলাপাতার ফাঁকে হাত ঢুকিয়ে বুনো বক ধরেন। এ কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় বকের ঠোকর খেতে হয়। এভাবে প্রতিবছর ভাদ্র থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত তারা বক শিকার করে থাকেন। প্রতি জোড়া বক ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে।’
এ বিষয়ে রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজের প্রভাষক ও পরিবেশ প্রেমী মো.মাজেম আলী মলিন বলেন,‘বক ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। তা জেনেও অনেক শিকারি জলাশয় ও ধানের জমি থেকে বক শিকার করে বিক্রি করছেন, যা মোটেও কাম্য নয়।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.তমাল হোসেন জানান, ‘পাখি শিকার করা দন্ডণীয় অপরাধ। অচিরেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে শিকারিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
তানিম/বার্তা বাজার/অমি