এক যুগ ধরে বাঁশঝাড়ে শতশত বক ও পানকৌড়ি এসে মিলে মিশে বসবাস করছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা এই পাখিগুলো চারমাস অবস্থান করে তাদের প্রজনন কাজ সম্পন্ন করে বাচ্চা নিয়ে আবার চলে যাচ্ছে অন্য ঠিকানায়।
নান্দাইল উপজেলার খামারগাঁও গ্রামের আব্দুল আওয়ালের বাড়ির পিছনে ঘন সন্নিবেশিত বাঁশের জঙ্গলে নিরাপদ আবাসস্থল মনে করে এরা বসবাস করছে। এ যেন মানুষ ও পাখির সহাবস্থানে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক পরিবেশের এক বাসভূমি।
জানা গেছে, প্রতিদিন ভোরে কিচির মিচির শব্দে ঘুম ভাঙ্গে এলাকার মানুষের। আর বিকালের পরিবেশটা যেন বেশ উপভোগের হয়ে উঠে। ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসা পাখির ডাকে মুগ্ধতা ছড়ায় এলাকার মানুষের মাঝে। তারপর সন্ধ্যায় আশ্রয় নেয় বাঁশ ঝাড়ে। সেখানে রাত্রি যাপনের পর ভোরের আলো ফুটে উঠার সঙ্গে সঙ্গে দল বেঁধে দেয় ছুট। এমন দৃশ দেখতে ছুটে আসে এলাকার পাখি প্রেমীরা। সাধারণত জুনের শেষের দিকে এই অতিথি পাখিরা আসে। অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত এরা এখানে অবস্থান করে। এসময় ডিম পেড়ে বাচ্চা ফুটানোর কাজ শেষ হয়। বাচ্চা বড় হলে এক সাথে চলে যায় অন্য স্থানে। পরের বছর একই নিয়মে নতুন করে এসে বাসা বাঁধে।

ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশ ঝাড়ের সবুজ পাতার ফাঁকে বক ও পানকৌড়ি এক সাথে বসবাস করছে। ধবধবে সাদা বকগুলো কাশফুলের মতো পেখম মেলে শূন্যে ডানা মেলে ভাসছে। বাঁশঝাড় এবং এর তলায় তাদের বিষ্টা ও খসে পড়া পালকে সয়লাব। লোকজন জানায় ভোরবেলায় পাখিগুলো দল বেঁধে ছোটমাছ, ব্যাঙ ইত্যাদি খাবারের উদ্দেশ্যে দূর-দুরান্তের বিলে চলে যায়। কখনো আশেপাশের পুকুর বা মৎস্যখামারে তারা মাছ শিকার করেনা।
আব্দুল আউয়ালের স্কুল শিক্ষক ছেলে আতিকুর রহমান মিলন বলেন, পাখিগুলো দীর্ঘদিন এখানে অবস্থান করলেও কারোর কোন ক্ষতি করে না। বরং জমির পোকা মাকড়ও ছোটছোট সাপ খেয়ে আমাদের উপকার করছে।
নান্দাইল সরকারি শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আব্দুল জব্বার চৌধুরী জানান, বর্ষাকাল এসব পাখিদের প্রজননকাল। ডিম পেড়ে বাচ্চা ফুটে উড়া শিখা পর্যন্ত প্রায় তিন মাস সময় লাগে। এরা যে এলাকাকে নিরাপদ মনে করে সেখানেই গাছে বসবাস করে।
মজিবুর রহমান ফয়সাল/বার্তা বাজার/অমি