হিমাগারে সংরক্ষিত আলু নিয়ে বিপাকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা

আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বগুড়ার শিবগঞ্জের চাষিরা। গত কয়েক বছর একটানা আলু চাষে লোকসান গণার পর গত বছর কিছুটা দাম পেলেও বাজারে ধস নেমেছে আবারো। গত ফেব্রুয়ারী মাসে আলুর ভরা মৌসুমে ভালো দাম না পাওয়ায় লাভের আশায় জমি থেকে আলু তুলে হিমাগারে সংরক্ষন করেছেন এ এলাকার সিংহভাগ আলু চাষি। কিন্তু বর্তমানে ক্রেতা সংকটে রীতিমতো মাথায় হাত পড়েছে কৃষকদের। আলুর বাম্পার ফলন ঘরে তুলতে পেরে কৃষকের মুখে হাসি ফুঁটলেও সে আনন্দ ম্লান হয়েছে দাম না পাওয়ায়।

সরেজমিনে বগুড়ার শিবগঞ্জের বেশ কয়েকটি হিমাগার ও বাজার ঘুরে দেখা যায়, আলুর বস্তা নিয়ে দাড়িয়ে আছেন ব্যবসায়ী ও কৃষকরা। ক্রেতা নেই বললেই চলে। যে দুই চার বস্তা বিক্রি হচ্ছে তার দাম খুব কম। বাজার পরিস্থিতি জিজ্ঞাসা করলে তারা জানান, বর্তমানে আলুর ক্রেতা খুব কম। উৎপাদন খরচের টাকাও উঠছেনা।

এ সম্পর্কে কথা হয় উপজেলার মোকামতলার কাশিপুর এলাকার আলু চাষি আব্দুল মান্নানের সাথে। তিনি জানান, বর্তমানে প্রতি বস্তা আলু বিক্রি হচ্ছে ৫’শ থেকে ৬’শ টাকায়। প্রতি বস্তায় ৬০ কেজি আলু আছে। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে হিমাগারে রাখতে প্রতি বস্তা আলু বাবদ খরচ হয়েছে ২’শ ৩০ টাকা, বস্তা বাবদ ৭০ টাকা, পরিবহন বাবদ ২০ টাকা, লেবার খরচ ১০ টাকা সহ মোট ৩৩০ টাকা বাড়তি খরচ হয়েছে। সে অনুপাতে প্রতি বস্তা আলুতে ১৭০ থেকে ২৭০ টাকা পাচ্ছি আমরা। যা দিয়ে উৎপাদন খরচ ও উঠছেনা।

খুব একটা ভালো দিন যাচ্ছেনা ব্যবসায়ীদেরও। আলু উত্তোলনের সময় সাড়ে ৭’শ টাকা করে গ্রামে গ্রামে ঘুরে হাজার হাজার বস্তা আলু কিনে লাভের আশায় হিমাগারে রেখেছেন তারা। কিন্তু বস্তা, পরিবহন ও শ্রমিক খরচসহ প্রতি বস্তা আলুতে তাদের মোট খরচ প্রায় ১১’শ টাকা।সেই অনুপাতে তাদের প্রতি বস্তা আলুতে লোকসান গুনতে হচ্ছে ৫ থেকে ৬’শ টাকা। গত সপ্তাহে আলুর অস্বাভাবিক দরপতনে উপজেলার মোকামতলা আরএ্যান্ডআর হিমাগারে আব্দুল বারী নামের এক ব্যবসায়ী হার্ট এ্যাটাকে মারা যান।

মোকামতলা আরএন্ডআর পটেটো কোল্ড স্টোরেজে আলু কিনতে আসা শিবগঞ্জের আলু ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম জানান, আমরা প্রতি বস্তা ডায়ামন্ড আলু সাড়ে পাঁচ’শ, কার্ডিনাল পাঁচ’শ টাকা ও গ্র্যান্ড আলু সাড়ে চার’শ টাকা বস্তা কিনছি।

নুরুল ইসলাম লেদো নামের আর এক আলু ব্যবসায়ী জানান, আলুর উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে আলুর দাম কমেছে।

আলু ব্যবসায়ী বকুল, তুহিন ও রফিকুল জানান, এ বছর আলুর বাজার খুব খারাপ। ভবিষ্যতে চাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। আলু ব্যবসায়ী, চাষি ও হিমাগার মালিকদের আর্থিক বিপর্যয় ঠেকাতে দ্রুত আলু রপ্তানির ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ তৎপরতায় খাদ্যসামগ্রী হিসেবে আলুকে দিতে হবে অগ্রাধিকার। তাহলেই কেবল আলুর বাজারে চাঙ্গা ভাব ফিরে আসতে পারে।

আরএ্যান্ডআর পটেটো কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক আলাউদ্দিন আল মামুন জানান, ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আলু কিনে হিমাগারে মজুদ করা হয়। বর্তমানে এই হিমাগারে ১ লক্ষ ৩০ হাজার আলু মজুদ আছে। গত বছর আলুর চাহিদা থাকায় এরকম সময়ে ২০/৩০ হাজার বস্তা ছিলো হিমাগারে।

শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মুজাহিদ সরকার বলেন, এ অঞ্চলে আলুর বাম্পার ফলন হয় বরাবরই। উপজেলার ১২টি হিমাগারে আলুর ধারণক্ষমতা ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৪০ টন। এবার আলুর আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে ।

বগুড়া জেলা কোল্ড স্টোরেজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল গফুর বলেন, সব মিলিয়ে আমরা মালিক, ব্যবসায়ীরা আছি হতাশায়। অন্যবার এ সময় আলু স্টোর থেকে খালি হয়ে যেত। কিন্তু চাহিদা কম থাকায় এবার অর্ধেক আলুও বের হয়নি এখন পর্যন্ত।#

খালিদ হাসান/বার্তা বাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর