৩০০ টাকার ট্রেনের টিকিট ৯০০ টাকায় কিনেও যাত্রী ভোগান্তি!
রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী এক হাজার ৩৮৭ সিটের পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কেটেও ভ্রমণ করতে না পারার অভিযোগে ক্ষুব্ধ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।
এ ঘটনায় রেলস্টেশন এলাকায়জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে নগর বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
যাত্রীদের অভিযোগ- ৩০০ টাকার টিকিটের কিনেছেন ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাড়তি টাকায় টিকিট কিনেও ট্রেন ভ্রমণ করতে পারেন নি। উল্টো জোর করেই ট্রেন থেকে নামিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এরপর ট্রেন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্বাক্ষাত করতে চাইলে তারা কোন সাড়া দেয় নি
বুধবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে রেলস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরিক্ষায় অংশ নেয়া অনেক শিক্ষার্থী প্ল্যাটফরমে অবস্থান নিয়েছেন। কেন তাদের ট্রেন থেকে নামিয়ে দেয়া হলো সেটা জানতে চাচ্ছেন। এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
ঢাকার মুগদার বাসিন্দা বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্ষার্থী মুরাদ হোসেন জানান, তিনি দুপুরের দিকে পদ্মা এক্সপ্রেসের টিকিট কেটেছেন। সিঙ্গেল টিকেটের মূল্যে নেয়া হয়েছে ৯০০ টাকা। সেই অনুযায়ী ট্রেন আসলে প্রবেশ করেন। কিন্তু এরমধ্যে টিটি ট্রেন থেকে তাকেসহ আরও অনেক যাত্রীদের নামিয়ে দেন। কেন তাদের ট্রেন থেকে নামিয়ে দেয়া হলো এবিষয়ে বারবার জানতে চেয়েও কোন উত্তর পাওয়া যায় নি। তিনি এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদেরকে গন্তব্যে স্থলে পৌঁছে দেয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে রাজশাহী রেল স্টেশন মাস্টার আব্দুল মালেক জানান, পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট এক সপ্তাহ আগেই অনলাইন ও টিকিট কাউন্টারে বিক্রি হয়ে গেছে। কিছু স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি করেছে ভ্রম্যমান টিটি।
এ বিষয়ে স্টেশন ম্যানেজার আব্দুল করিম জানান, তারা এক সপ্তাহ আগে টিকিট বিক্রি করেছেন। নতুন করে টিকিট দেয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। স্ট্যান্ডিং টিকিটও বন্ধ রাখা হয়েছে। এখানে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন কর্র্তৃপক্ষের কোন দোষ নেয়।
তিনি আরও বলেন, ভ্রাম্যমান টিটিরা ট্রেনের টিকিট ছাড়া কেউ যেন ভ্রমণ করতে না পারে সে বিষয়ে নজর রাখেন। তারা বগিগুলোতে ঘুরে ঘুরে টিকিট চেক করেন। কেউ টিকিট ছাড়া ভ্রমণ করলে জমিমানাসহ স্ট্যান্ডিং টিকিট দেন। কিন্তু এটারও একটা লিমিট আছে। কিন্তু আজকে ভ্রাম্যমাণ টিটিরা ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি টিকিট বিক্রি করেছেন।
এখন তারা কার অনুমতি নিয়ে এই টিকিট বিক্রি করলো তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে। তবে আপতত এই এক থেকে দেড়’শ মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে কম্পিউটার ট্রেন দেয়া হয়েছে। যেটা ইশ্বরদী পর্যন্ত যাবে। ইশ্বরদী থেকে খুলনার সুন্দরবন এক্সপ্রেসের মাধ্যমে তাদেরকে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া হবে। এছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পশ্চিমাঞ্চল রেলের জিএম আবদুল আওয়াল ভূঁইয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রির্পোট লিখা পর্যন্ত তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
মাহাবুল ইসলাম/বার্তা বাজার/টি