কুমিল্লার বুড়িচং-এর ইউএনও সাবিনা ইয়াছমিনকে ‘আপা’ বলে ডাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিনের (৪৫) প্রতি ক্ষিপ্ত হয়েছেন। নিজেকে মা বলে ডাকার জন্য ওই ব্যবসায়ীকে নির্দেশ দেন তিনি। ইউএনও কার্যালয়ে ঘটা ওই ঘটনাটি উপজেলার ভরসার বাজারের ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন মঙ্গলবার (০৫ অক্টোবর) ফেসবুকে শেয়ার করেন। এরপর ভাইরাল হয়ে যায় তার পোস্টটি।
জামাল উদ্দিন লিখেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সাধারণ জনগণ ‘স্যার’ বলতে হবে এটা কি বাধ্যতামূলক? এ বিষয়ে সরকারের কোনো আইন আছে কি? ফ্যাক্ট: বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ‘আপা’ বলার কারণে খুব রাগান্বিত হয়েছেন। এটা নাকি অফিস অ্যাড্রেস না। আপা না বলে মা ডাকতাম। আমি লজ্জিত। দেশটা কি মগের মুল্লুক?
জামাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, সোমবার দুপুরে আমার এক আত্মীয়ের জন্মনিবন্ধন সংশোধনের জন্য আমি ইউএনও কার্যালয়ে যাই। ‘স্যার’ সম্বোধন করে উনার সঙ্গে আমার কথা শুরু হয়। কথা বলার এক পর্যায়ে অপ্রত্যাশিতভাবে আমার মুখ থেকে ‘আপা’ শব্দটি বের হয়। এ সময় তিনি রেগে গিয়ে বলেন, ‘এটাতো অফিসিয়াল ভাষা না। তাহলে আপা না ডেকে মা ডাকেন। বিষয়টি নিয়ে আমি বিব্রত। ঘটনার সময় বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও রাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনওর ক্ষিপ্ত হওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোস্তাফা।
তবে ইউএনও সাবিনা ইয়াছমিন জানান, একজন বয়স্ক লোক এসে আমাকে ‘আপু’ ডেকেছে। আমি তাকে বলেছি, ‘আপনি আমার বাবার বয়সী, ‘মা’ ডাকেন’। বয়স্ক লোক ‘মা’ ডাকবে এটা স্বাভাবিক। আপু ডাকলে বুঝতে হবে তার চরিত্রে সমস্যা আছে। যার চরিত্রগত সমস্যা আছে, সে মেয়ে দেখলেই আপু ডাকে। এটা বুঝতে হবে। যার এক পা কবরে চলে গেছে, সে আমাকে আপু ডাকলে অবশ্যই আমার আপত্তি আছে।’
বার্তা বাজার/এসজে