শরীয়তপুরে যুবলীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে শতাধিক বোমার বিস্ফোরণ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালিয়েছে। এসময় পুলিশের সামনেই অস্ত্র হাতে শহরে হয়েছে মহড়া। এসব ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
জানা যায়, এসব ঘটনায় সারা শহর জুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বন্ধ রয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। একই সাথে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশও।
এ বিষয়ে পালং থানার ওসি আক্তার হোসেন জানান, পূর্বঘোষিত তারিখ অনুযায়ী মঙ্গলবার সকালে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে ও পৌর মার্কেটের ভেতরে জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন, প্রধান অতিথি যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. খালেদ শওকত আলী। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল।
জেলা যুবলীগের সভাপতি এমএম জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. হেলাল উদ্দিন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুক্তা।
ওসি আরও জানান, সকালে থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের লোকজন ভিন্ন ভিন্ন মিছিল নিয়ে আসতে থাকে। কিন্তু সভা শুরুর আগেই পালং উত্তর বাজারের শরীয়তপুর ফায়ার সার্ভিস এলাকায় প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর বাচ্চু বেপারীর লোকজন ও শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র ও শরীয়তপুর জেলা যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট পারভেজ রহমান জনের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও শতাধিক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এ সময় পথচারী চরপালং এলাকার মো. জাকির মাদবর (৩২), মো. শামীম মিয়া (৩৮), আক্তার হোসেন ঢালী (৪০), চয়ন বিশ্বাস (৩১), চন্দ্রপুর এলাকার তামিম ফকিরসহ (১৮) ১০ জন মারাত্মক আহত হন। আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
শরীয়তপুর জেলা যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী ও শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র পারভেজ রহমান জন বলেন, গত দুই দিন ধরেই প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর বাচ্চু বেপারীর লোকজন আমার লোকজনকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. খালেদ শওকত আলী যখন শরীয়তপুর আসেন তখন আমার লোকজন তার কাছে যাচ্ছিল। তখন অতর্কিতভাবে বাচ্চু বেপারী তার লোকজন নিয়ে আমার লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা আমার সমর্থকদের ৫-৬টি গাড়ি ভাংচুর করে।
প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর বাচ্চু বেপারীকে বারবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) এসএম মিজানুর রহমান বলেন, ফায়ার সার্ভিস এলাকায় যুবলীগের দুই গ্রুপের সমর্থকরা ১৫-২০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটালে উত্তেজিত কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ ২৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বার্তা বাজার/এসজে