পাখিপ্রেমি আব্দুল লতিফ হাজারো পাখির খোরাক জোগায়

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভেন্ডাবাড়ী হাট। ধান-চালের জন্য খ্যাত এ হাটের পশ্চিম পাশেই প্রাচীনতম ডাকবাংলো। এই ডাকবাংলোর ভিতর মেহগনি, আকাশমনি গাছ বাগানে নানা রকমের হাজারো পাখির বসবাস। পাখিদের কোলাহলেই যেন ঘুম ভাঙ্গে এলাকাবাসীর। দেশের বিভিন্ন স্থানে অবাধে গাছ-পালা নিধনের ফলে অনেক নিবাসহারা পাখিগুলো আশ্রয় নিয়েছে সেখানে। ডাকবাংলোর সঙ্গেই আব্দুল লতিফ মিয়ার রসগোল্লার জন্য খ্যাত ‘তিন কন্যা হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্ট।’

প্রত্যহ ভোরে আযানের পূর্বে পাখিগুলো হোটেলের চারপাশে খাবারের জন্য কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত করে তোলে পুরো এলাকা। প্রতি রাতে হোটেলের ভিতর যখন মানুষের খাবার তৈরীতে কারিগররা ব্যস্ত, তখন পাখিদের জন্য খাবার তৈরীতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে পাখিপ্রেমি আব্দুল লতিফ মিয়া। ভোরে পাখিদের খাবার না দেয়া পর্যন্ত তার হোটেলে খাবারতো দুরের কথা কোন কাস্টমারকে বসতেও দেন না।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভেন্ডাবাড়ী বন্দরের চারমাথা মোড়ে হোটেল মালিক আব্দুল লতিফ ইতিমধ্যেই পাখিদের খাবার হোটেল বারান্দার ছাদে ছিটিয়ে দিয়েছেন। পাখিগুলো হুড়োহুড়ি করে মুখে খাবার নিচ্ছে এবং হোটেলের চারপাশে বিভিন্ন গাছে, বৈদ্যুতিক তারে কিংবা দোকানের ছাদে বসে কোলাহল করছে।

মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) সকালে এ বিষয়ে পাখিপ্রেমি আব্দুল লতিফ মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, প্রায় ৮/১০ বছর ধরে পাখিদের প্রতিদিন ভোর বেলায় খাবার দিয়ে আসছেন। শুধু পাখিই নয়, বেশকিছু কুকুরকেও তিনি নিয়মিত সকালে খাবার দেন। সুর্যোদয়ের সাথে সাথে পাখিগুলো যে যার মত ছুটে চলে যায় বিভিন্ন স্থানে। সন্ধ্যা হলেই আশ্রয় নেয় ডাকবাংলোর গাছগুলোতে।

সংরক্ষিত ডাকবাংলোর চারপাশে মেহগনি, আকাশমনি গাছ। গাছগুলোতেই দীর্ঘদিন ধরে ঝাঁকে ঝাঁকে কাক, সারস, পানকৌড়ি ও বকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বাস করে আসছে। ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার ও স্থানীয়রা কোনভাবেই পাখি শিকারীদের ওই এলাকার ত্রিসীমানায় ভিড়তে না দেয়ায় পাখিদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে ভেন্ডাবাড়ী ডাকবাংলো। সকাল সন্ধ্যায় ডাকবাংলোয় পাখিদের হাট দেখে সাধারণ পথচারী কিংবা প্রকৃতিপ্রেমিরা কিছুটা হলেও থমকে দাঁড়ায়।

ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার হবিবুর রহমান জানান, পাখিগুলো সারাদিন ঘুরে ফিরে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহুত্বে গাছের ডালে ডালে বসে কোলাহল আর কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত করে তোলে পুরো এলাকা। গাছে বসা পাখিদের মনোমুগ্ধকর কলতালে এমন পরিবেশের সৃষ্টি হয় যে, ওই সময় ওই এলাকায় পথচারীদের মোবাইলে কথা বলা বা শোনার কোন উপায় নেই। আমরা সর্বদা খেয়াল রাখি যেন কেউ পাখিগুলোকে বিরক্ত বা ভয়-ভীতি না দেখায়।

মোঃ আনজারুল হক/বার্তা বাজার/এসবি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর