ভৈরবে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২ পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫

সোমবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জগন্নাথপুরের লক্ষীপুর এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন মিন্টু সমর্থক ও পরাজিত কাউন্সিলর মোশারফ হোসেন সমর্থকদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ নেতাসহ আহত হয়েছে ৫ জন । এছাড়া বেশ কয়েকটি বাড়ি-ঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।

খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটঁনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আওয়ামী লীগ নেতাকে মারধোরের ঘটনায় ভৈরব পৌর আওয়ামী লীগের তীব্র নিন্দা,প্রতিবাদ ও জরুরীসভা আহবান করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসিরা জানায়, গত কয়েকদিন আগে ভৈরব সাতমুখি বিলে জলপুরী কফি হাউজের দারোয়ান মাসুদ মিয়াকে পৌরসভার বতর্মান কাউন্সিলর মোশারফ হোসেন মিন্টু মিয়ার শ্যালক থাপ্পড় মারে । ঘটনাটি পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় মিমাংসা করা হয় ।

এ ঘটনার জের ধরে সোমবার দুপুরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে । ঘন্টা ব্যাপী উভয় পক্ষের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ইটঁপাটকেলের আঘাতে বেশ কয়েক জন আহত হয়। এ সময় কয়েকটি বাড়ি-ঘর ভাংচুর করা হয় ।

খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটঁনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় স্থানীয় ৬নংওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি আমিনুল ইসলাম একটি কিন্ডার গার্টেনের ভিতরে থাকাবস্থায় ভিতরে ঢুকে পুলিশ তাকে পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে । বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে ।

এ বিষয়ে পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন মিন্টু মিয়া জানান, গত কয়েক দিন আগে গনটিকা কার্যক্রমের দিন প্রতিপ্রক্ষে লোকজন জনগনকে টিকাদিতে বাধা প্রদান করে। এ সুত্র ধরে আজ সোমবার লোকজনের মধ্যে ঝগরা হয়। এসময় আমার সমর্থকদের হামলা চালিয়ে উভয় পক্ষের কয়েকটি বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে ।

এ বিষয়ে আহত ৬নংওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, তিনি কোন সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন না। তিনি তার প্রতিষ্ঠিত স্কুলের ভিতরে অবস্থান করছিলেন। তারপর ও ভৈরব থানার পরিদশর্ক কাজি মাহফুজ হাসান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশ তাকে পিটিয়ে আহত করেছে। তিনি ঘঁনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক বিচার দাবি করেন ।

এ বিষয়ে পৌর আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক আতিক আহমেদ সৌরভ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলামকে অযথা পুলিশ মারধোর করে আহত করায় পৌর আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে এ ঘটঁনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় । এছাড়া পৌর আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে একটি জরুরী সভা আহবান করা হয়েছে ।

এ বিষয়ে ভৈরব থানার ওসি মোঃ শাহিন জানান, স্কুলের ভিতর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হলে পুলিশ আত্মরাক্ষার্থে ও সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে লাঠিচার্জ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ কোন নেতাকে মারধোর করা হয়নি । সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মোঃ জামাল আহমেদ/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর