ইমদাদুল মাগফুর পেশায় একজন চিকিৎসক। তাঁর কর্মস্থল নান্দাইল উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল দরিল্লা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে। তিনি চিকিৎসার পাশাপাশি আইসিটির ফোকাল পারসনও। সম্প্রতি তিনি ‘মাই ডক্টর অ্যাপ’ নামে চিকিৎসা বিষয়ক অ্যাপ উদ্ভাবন করেছেন।
তিনি দাবি করছেন, এটাই বাংলাদেশে প্রথম অ্যাপস যা থেকে উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগ অনেকাংশে নিরাময় সম্ভব।
জানা গেছে, দরিল্লা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে এই অ্যাপসের মাধ্যমে ছয়টি কমিউনিটি ক্লিনিকে চার শতাধিক রোগীর চিকিৎসা দিয়েছেন ইমদাদুল মাগফুর। প্রতিদিন সেবা গ্রহীতার সংখ্যা বেড়েই চলছে। এই অ্যাপে রোগীর জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর যুক্ত করা হলে নাম ঠিকানা চলে আসে। পরে রোগ সম্পর্কে রোগী যাবতীয় তথ্য প্রদানের পর অ্যাপে রোগীর নামের পাশে তা সংরক্ষিত হয়।
পরে চিকিৎসার যাবতীয় তথ্য, যেমন ডায়াবেটিস, রক্তচাপ ইত্যাদি তথ্যও সংরক্ষিত হয়। এসব তথ্য দেখে চিকিৎসক ইমদাদুল ব্যবস্থাপত্র দেন। ওই ব্যবস্থাপত্রটি কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের (সিএইচসিপি) সরকারি ট্যাবে গিয়ে সংরক্ষিত হয়। পরে ওই রোগী যতবার তাঁর রোগ সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেন, ততবারই পূর্বের দেওয়া তথ্য চিকিৎসকের স্মার্ট ফোনে ভেসে ওঠে। এই অ্যাপস উদ্ভাবনের ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগী সরাসরি ভিডিও কলের মাধ্যমে চিকিৎকের সঙ্গে কথা বলে সেবা নিতে পারছেন।
ডা. ইমদাদুল মাগফুর জানান, বাংলাদেশে সংক্রামক ব্যাধিতে মৃত্যু হার শতকরা প্রায় ৬৭ ভাগ। এর অন্যতম কারণ উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস। এসব রোগ সৃষ্ট দীর্ঘ মেয়াদি জটিলতা। এই দুই রোগের চিকিৎসা জীবনব্যাপি হওয়ায় অনেকেই ইচ্ছা সত্যেও ঔষুধ নিয়মিত খেয়ে যেতে পারেন না।
সেই সাথে থাকেন না নিয়মিত ফলোআপে। ফলে রোগের তীব্রতা ও এ সংক্রান্ত জটিলতা বৃদ্ধি পায়। এই অ্যাপসের মাধ্যমে সহজেই দুরবর্তী কোনো এলাকার রোগীকে ভিডিওকলে সেবাদান এবং অ্যাপস ব্যবহারের মাধ্যমে সহজেই রোগিদের যাবতীয় তথ্য একজন সিএইচসিপি কর্তৃক অ্যাপস হালনাগাদ করা হয়।
একই সাথে রোগীদের ভিডিও কলের মাধ্যমে তাদের সেবা দেয়া হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ ও কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে জনগনের দোড়গোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেয়ার স্বপ্নের মেলবন্ধন এই অ্যাপস। অ্যাপসটি আরও উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিটা ঘরে চিকিৎসা সেবা পৌঁছানো সম্ভব হবে।
এই অ্যাপসে সেবা নিচ্ছেন খুদেজা খাতুন (৬১), কামরুজ্জামান (৩৭), বাচ্চু মিয়া (৫৩), মমতাজ বেগম (৫৪)। তারা জানান, অ্যাপসে চিকিৎসা নেওয়ার পর এখন আর লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন পড়ে না। সময় ও অর্থ দুই সাশ্রয় হয়। এ ছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে নিয়মিত ওষুধ পেতে কোনো সমস্যা হয় না।
এই বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহমুদুর রশীদ বলেন, ডিজিটাল এই অ্যাপ পদ্ধতির মাধ্যমে একাধিক চিকিৎসকের পরামর্শে প্রত্যন্ত এলাকার রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা যায়।
বর্তমানে নান্দাইলের ছয়টি কমিউনিটি ক্লিনিকে এই অ্যাপসের মাধ্যমে উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এই অ্যাপসের মাধ্যমে দেশের যে কোন জায়গা থেকে রোগীরা সেবা নিতে পারবে। কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সারা উপাজেলায় চালু করা চেষ্টা করছি। অ্যাপসটা আরও উন্নত করা গেলে সারা দেশেই এর সেবা চালু করা যাবে।
মজিবুর রহমান ফয়সাল/বার্তা বাজার/টি