নোয়াখালীর চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃঞ্চপুর গ্রামে নারীকে ধর্ষণের পর বিবস্ত্র করে নির্যাতনের মামলায় প্রধান দুই আসামি দেলোয়ার হোসেন দেলু ও আবুল কালামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৪ অক্টোবার) বেলা ১১টার দিকে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জয়নাল আবেদীন আসামিদের উপস্থিতিতে মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ লাবলু, বাদী পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোল্লা হাবিবুর রসুল মামুন ও আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন বাদল।
পাবলিক প্রসিকিউটর মামুনুর রশীদ লাভলু জানান, আলোচিত গৃহবধূ ধর্ষণ মামলাটিতে আমরা বিজ্ঞ আদালতে সাক্ষী উপস্থাপন, জেরা ও জবানবন্দি সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ১২ জন ও আসামি পক্ষে তিনজন সাক্ষ্য দেন। বিজ্ঞ আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একইসঙ্গে রায়ে উভয় আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর একলাশপুর ইউনিয়নের দেলোয়ার বাহিনীর লোকজন ওই নারীর বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। পরে তার স্বামীকে বেঁধে রেখে ওই নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করে। ঘটনার ৩২ দিন পর নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে সারাদেশে শুরু হয় আন্দোলন।
পরে ৬ অক্টোবর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক আল-মাহমুদ ফয়জুল কবীর নোয়াখালীতে এসে ওই নারীর সঙ্গে দেখা করেন। তখন ওই নারী তার কাছে অভিযোগ করেন, বিবস্ত্র করে নির্যাতনের আগে দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার তাকে দুই দফা ধর্ষণ করেছেন। এর মধ্যে প্রথম দফা ধর্ষণ করে ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর, দ্বিতীয়বার ২০২০ সালের ৭ এপ্রিল। ধর্ষণের সময় দেলোয়ারের সহযোগী আবুল কালামও তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
সূত্র জানায়, ওই দিন রাতেই (৬ অক্টোবর, ২০২০) বেগমগঞ্জ থানায় ওই নারী বাদী হয়ে দেলোয়ার হোসেন ও তার সহযোগী আবুল কালামকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইর পরিদর্শক সিরাজুল মোস্তফা অভিযুক্ত দুই আসামির বিরুদ্ধে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
বার্তা বাজার/নব