এখনও বিক্রি হচ্ছে অবৈধ মোবাইল ফোন

দেশের বাজারে এখনও আন-অফিসিয়াল বা অবৈধ মোবাইল ফোন বিক্রি হচ্ছে। বিক্রিকৃত এসব হ্যান্ডসেটগুলোর বেশিরভাগই ৩০ অক্টোবরের মধ্যে দেশের নেটওয়ার্কে সচল করা হয়েছিল। আর এখন এসব মোবাইল বিক্রি হচ্ছে বেশ সস্তায়। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) বলছে, অবৈধ বা আন অফিসিয়াল মোবাইল বিক্রি বন্ধে প্রচারণা কার্যক্রম ছাড়াও ভবিষ্যতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

দেশের বাজারে অবৈধভাবে মোবাইল ফোনের আমদানি বন্ধ, মোবাইল চুরি, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সরকারের রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)’ প্রযুক্তি চালু করেছে বিটিআরসি। পহেলা জুলাই থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে চলেছে এই প্রযুক্তির কার্যক্রম। বিটিআরসি বলছে, ১ অক্টোবর থেকে দেশের নেটওয়ার্কে নতুন করে আর কোন অবৈধ মোবাইল ফোন সচল হচ্ছেনা।

এদিকে মোবাইল মার্কেটগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখনও আন-অফিসিয়াল বা অবৈধ মোবাইল ফোন বিক্রি হচ্ছে। রোববার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের আন অফিসিয়াল মোবাইলের একাধিক দোকানে খোঁজ নিতে গিয়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, অফিসিয়াল সেটের পাশাপাশি তারা আনঅফিসিয়াল সেটও বিক্রি করছে। শপিং মলটির কে আর ওয়াই ইন্টারন্যাশনালের দোকানে দেখা গেছে, অনঅফিসিয়াল মোবাইল হ্যান্ডেসেট কিনতে ক্রেতাদের ভিড়। দোকানটিতে বেশ কম দামে আন অফিসিয়াল হ্যান্ডসেট বিক্রি হতে দেখা গেছে। সুমাশ টেক (SUMASH TECH) নামের দোকানটিতেও আন অফিসিয়াল মোবাইল হ্যান্ডসেট বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আরও একাধিক দোকানেও আন অফিসিয়াল সেট বিক্রি হতে দেখা গেছে। এসব দোকানে আইন ফোন থার্টিন ১ লাখ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মোবাইল আমদানি কারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক আমদানিকারকই অবৈধ উপায়ে আনা ফোনগুলো দেশের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সচল করে রেখেছেন। অর্থাৎ ৩০ অক্টোবরের মধ্যে মোবাইল ফোনগুলোতে তারা দেশের কোন সিম ব্যবহার করেছেন। এর ফলে ওইসব সেটগুলো এখন আর বন্ধ হবেনা।

জানতে চাইলে বিটিআরসির ভাইস-চেয়ারম্যান সুব্রত কুমার মৈত্র বলেন, ‘অন অফিসিয়াল বা অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট বিক্রি বন্ধে প্রথমে আমরা ক্যাম্পেইন করবো। গ্রাহক ও ক্রেতাদের সচেতন করবো। পরে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের প্রথমে মটিবেশন করা হবে, পরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘১ তারিখের পর থেকে দেশের নেটওয়ার্কে অবৈধ কোন মোবাইল ফোন আর সচল হয়নি। অবৈধ হলে মেসেজ চলে যাবে। যদি সেটটি বৈধ হয়, তাহলে গ্রাহক রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। বৈধভাবে বিদেশ থেকে আনা বা উপহার পাওয়া মোবাইল ফোনও রেজিস্ট্রেশন করা যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি কেউ আন অফিসিয়াল সেট কেনে সেটা তার দায়িত্ব। আমরা প্রচারণা চালাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য কোন গ্রাহক যাতে প্রতারিত না হয়। তারা মোবাইল কিনে যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয়। আর সরকারও যাতে রাজস্ব না হারায়। আমাদের লক্ষ্য মোবাইলের চুরি ও হারিয়ে যাওয়া ঠেকানো। এই সিস্টেম পুরো রান করলে এসব সমস্যা সমাধান হবে।’

বৈধ ও অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট কি: কোন ব্রান্ডের মোবাইল হ্যান্ডসেট সাধারণত ওই ব্রান্ডের দোকান থেকে কেনা হলে তা বৈধ বলে বিবেচিত। দেশে উৎপাদিত মোবাইল হ্যান্ডসেট গুলোও বৈধ। দেশের বাইরে থেকে বৈধ উপায়ে আমদানি করা সেটও বৈধ। আমদানিকৃত সেটগুলোর ক্ষেত্রে তা আমদানি করার সময় কাস্টমস ও বিটিআরসিতে ওই সেটগুলোর আইএমইআই নম্বর পাঠাতে হয়। ওই আইএমইআই নম্বর বিটিআরসির ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকে। একইভাবে দেশে উৎপাদিত সেটগুলোর ক্ষেত্রও আইএমইআই নম্বর বিটিআরসিতে পাঠানো হয়ে থাকে। অর্থাৎ বিটিআরসিতে যেসব সেটগুলোর আইএমইআই নম্বর সংরক্ষিত আছে বা থাকবে, সে সেটগুলোই বৈধ। এর বাইরে দেশে লাগেজ বা ব্যাগেজ পার্টির মাধ্যমে প্রচুর মোবাইল ফোন আমদানি হয়ে থাকে। এসব হ্যান্ডসেটকে আন অফিসিয়াল বা অবৈধ সেট বলা হয়ে থাকে। এসব মোবাইলের আইএমইআই নম্বর বিটিআরসিতে সংরক্ষিত থাকেনা। মূলত এসব সেটই অবৈধ। আর বৈধ ও অবৈধ সেট যাচাইয়ের পন্থাও বাতলে দিয়েছে বিটিআরসি। নির্দিস্ট একটি নম্বরে মেসজ পাঠিয়েই জানা যাবে সেটটি বৈধ না অবৈধ।

বিটিআরসি বলছে, বিক্রয় কেন্দ্র, ই-কমার্স সাইট হতে যেকোন মোবাইল হ্যান্ডসেট কেনার আগে অবশ্যই হ্যান্ডসেটটির বৈধতা যাচাই করতে হবে। ক্রয়কৃত হ্যান্ডসেট এর রশিদ সংরক্ষণ করতে হবে। মোবাইল বা হ্যান্ডসেটটি বৈধ হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনইআইআর সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়ে যাবে। মোবাইল ফোনর মেসেস অপশনে গিয়ে KYD লিখে একটি Space দিয়ে ১৫ ডিজিটের IMEI নম্বরটি লিখতে হবে ( উদাহরণস্বরূপঃ KYD 123456789012345)। আইএমইআই নম্বরটি লিখার পর ১৬০০২ নম্বরে পাঠাতে হবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাৎক্ষনিক ফিরতি মেসেস এর মাধ্যমে মোবাইল হ্যান্ডসেটের বৈধতা সম্পর্কে জানা যাবে। neir.btrc.gov.bd নামক ওয়েবসাইট ভিজিট করেও বৈধ বা অবৈধ সেট সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। একইসঙ্গে রেজিস্ট্রেশনের পন্থাও জানতে পারবেন গ্রাহকেরা।

বার্তা বাজার/এসবি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর