৩৭ বছরেও ভাতের স্বাদ গ্রহণ করেননি তিনি

ভাত বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাবার। প্রবাদ আছে, মাছে ভাতে বাঙ্গালি। মানুষের খাবার তালিকায় মাছ-ভাত ছাড়া এক দিনও কল্পনা করা যায় না। কিন্তু এর ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে ময়মনসিংহের ন্দাাইল উপজেলার বাসিন্দা শামীম খানের বেলায়।

জন্মের পর থেকে দীর্ঘ ৩৭ বছরেও তাঁর পেটে ভাত পড়েনি। এক বেলা পেট ভরে ভাত খাওয়ার জন্য কবিরাজের দারস্থ হয়ে তার একটি চোঁখ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এখন তিনি ভাতের স্বাদ গ্রহণ না পারার কষ্ট নিয়ে দিন পার করছে।

জানা গেছে, শামীম উপজেলার মেরেঙ্গা গ্রামের সাইদুর রহমান খানের পুত্র। জন্মের পর থেকে ভাতের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেননি তিনি। যখনই খাওয়ার জন্য ভাত মুখে নিয়েছেন সঙ্গে সঙ্গে বমি করে ফেলে দিতে হয়েছে। আটার রুটি, চিড়া মুড়ি ও ফলমূল খেয়েই তাকে জীবন ধারণ করতে হচ্ছে। এজন্য শামীমের পরিবারের লোকজন স্থানীয় চিকিৎসক, কবিরাজ, ভেষজ ও হারবাল চিকিৎসা করিয়েছেন। ভাত খাওয়ার আশায় অপচিকিৎসার স্বীকার হয়ে তার একটি চোঁখ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এখনো তিনি সেই চোঁখে ভালো দেখেন না। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারেনি।

শামীমের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ছোট বেলা থেকেই ভাতের প্রতি শামীমের অনিহা ছিল। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব দেইনি। পরে যখন দেখি এটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাচ্ছে তখন জোর করেই ভাত খাওয়াতে চেষ্টা করি। তখন মুখে ভাত দেওয়া হলে বমি করে দিত। এরপর স্থানীয় চিকিৎসক ও কবিরাজ দেখিয়েছি। তাতে কোন লাভ হয়নি। বরং অপচিকিৎসার স্বীকার হয়ে ছেলের চোঁখ নষ্ট হতে বসেছিল।

শামীম খান জানান, অন্যদের যখন ভাত খেতে দেখি তখন খুব স্বাদ জাগে। আমিও যদি ভাত খেতে পারতাম। কিন্তু নাকের কাছে ভাত নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মনে হয় ভিতর থেকে সব বের হয়ে আসছে। এজন্য কবিরাজি চিকিৎসা করাতে গিয়ে চোঁখ প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। অর্থাভাবে ভালো চিকিৎসা করাতে পারছি না। জানি না ভাত না খাওয়ার কষ্ট নিয়েই কি জীবন পার করতে হবে কিনা। শামীমের বাড়ির আশপাশের বাসিন্দারা জানায়, ভাত না খেতে পারা কতটা কষ্টের তা একমাত্র ভুক্তভূগিই জানে। শামীমের ভাত না খাওয়ার বিষয়টা এখন এলাকার সর্বত্র আলোচনার বিষয়। অর্থ থাকলে হয়তো সে উন্নত চিকিৎসা করে সুফল পেত। এই অবস্থায় শামীম দিন দিন শারীরিক ভাবে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

এই বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা স্বাস্থ্য ডা: মাহমুদুর রশিদ বলেন, ভাত না খেয়েও রুটি ও অন্যান্য পুষ্টিকর ফল খেয়ে বেঁচে থাকা যায়। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।

মজিবুর রহমান ফয়সাল/বার্তা বাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর