মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের কারণে উখিয়া-টেকনাফে পান চাষের কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি হলেও নানা প্রতিকূলতার মাধ্যমে কৃষকরা তা কাটিয়ে উঠেছে। তবে পানের বরজের জন্য জায়গা, উপকরণ সংকটের কারণে আগের মতো পান চাষে তেমন সুবিধা করতে পারছেনা কৃষকেরা।
তথাপিও রোহিঙ্গা স্থানীয়দের বিপুল চাহিদার কারণে বাজারে পানের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। যে কারণে বাড়ির আনাচে কানাছে পরিত্যক্ত জায়গায় পান চাষ করার জন্য কৃষকরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। পানের উৎপাদনও আগের চাইতে বেড়েছে দ্বিগুন। চলতি মৌসুমে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পরও প্রায় ২০ কোটি টাকার পান বিভিন্ন হাটবাজারে লেনদেন হয়েছে বলে পান বেপারীদের অভিমত।
উখিয়ার জলিয়াপালং ইউনিয়নের সোনারপাড়া গ্রামের পানচাষী সৈয়দ কবির জানায়, সে প্রতি বছর একখানি জমিতে পান চাষ করে থাকেন। পান চাষে অন্যান্য তরিতরকারি ও পণ্য সামগ্রী চাইতে অধিকতর সেবা যত্ন করতে হয়।
সে জানান, পান চাষ ফুল চাষের মতো। যত যত্ন করবেন তত আয় হবে। সে জানায় চলতি মৌসুমে সে ওই পানের বরজ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা আয় করেছে। পাশাপাশি পানের চারা বিক্রি করে পেয়েছে আরো ৪০ হাজার টাকা।
স্থানীয় পানচাষী বদিউল আলম, কাশেম ও সুলতান আহমদ জানায়, আগে পান চাষে এত কদর ছিল না। যেহেতু পান চাষে উপকরণ সংকট সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগের ভয়ে অনেকেই পান চাষ করেনি। বর্তমানে পান চাষী কৃষকেরা ধারাবাহিক লাভবান হওয়ার সুবাদে পান চাষে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উখিয়ায় সাড়ে ৪শ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে। তৎমধ্যে উপকূলীয় এলাকা জালিয়াপালং ইউনিয়নের প্রায় ৩শ’ একর পানের বরজে দৃশ্যমান পান উৎপাদন হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, উখিয়া টেকনাফে যেসব পান উৎপাদন হয়ে থাকে এসব পানের একাংশ রপ্তানীযোগ্য। প্রাকৃতিক দুযোর্গ বা অন্য কোন রোগ বালাইয়ে আক্রান্ত না হলে প্রতি অর্থ বছরে উখিয়া টেকনাফ থেকে ৫০ কোটি টাকার পান উৎপাদন সম্ভব।
তিনি বলেন,এলাকার অধিকাংশ পানচাষী কৃষক সরকারি বনভূমির পাহাড়ি পরিত্যক্ত এলাকায় পুঁজি বিনিয়োগ করে পান চাষ করে আসছে। এসব চাষীদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হলে পান চাষ করে শত শত হতদরিদ্র পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আসার সম্ভাবনা ছিল।
তিনি আরো বলেন, দু’ উপজেলায় প্রায় ৫ হাজারেরও অধিক পান চাষের সাথে জড়িত। বর্তমানে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে পানের মূল্য অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। যা কমে আসার কোন সম্ভাবনা নেই। যে কারণে এলাকার কৃষকেরা নতুন করে পান চাষের দিকে ঝুঁকেছে বলে তিনি দাবী করেন।
কোর্টবাজারের পাইকারী পান ব্যবসায়ী ছিদ্দিক ও আলমের সাথে আলাপ করা হলে তারা জানান, উখিয়ার সোনারপাড়া, কোর্টবাজার, মরিচ্যা, উখিয়া সদর, বালুখালী ও পালংখালী থেকে প্রতি সপ্তাহে লাখ লাখ টাকার পানের চালান শহরের বিভিন্ন আড়তদারে যাচ্ছে। আড়তদার ব্যবসায়ীরা এসব পান প্রক্রিয়াজাত করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চালান করছে।
তারা বলেন, এখানে উন্নতমানের রপ্তানীযোগ্য পান উৎপাদনে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া লে পান রপ্তানী খাতে সরকার প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে।
উপজেলার প্রবীণ পান ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম জানায়, এ অঞ্চলের বিভিন্ন বনভূমির পাহাড়ী অঞ্চলে পানের বরজে পান উৎপাদন হয়ে থাকে। এসব পানের বরজে পান চুরির উদ্দেশ্যে কেউ ঢুকলে সেখানে পানে এক ধরনের রোগের সৃষ্টি হয়। যা নিয়ে কৃষকদের হতাশায় ভুগতে হয়। এব্যাপারে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের উচিত গ্রামে গ্রামে গিয়ে পানচাষীদের পান চাষে উদ্ভুদ্ধ করণ ও রোগ নিরাময়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া।
বার্তা বাজার/অমি