বিমানবন্দরে পিসিআর টেস্ট সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হবে: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুদাবিতে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন শ্রম কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। শনিবার (০২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় আবুদাবির বাংলাদেশ দূতাবাসে এ মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত আবু জাফরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। সভার আয়োজন করা হয় প্রবাসী শ্রমিকদের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত জানার জন্য। তবে সেখানে থাকা অর্ধ শতাধিক শ্রমিকের মধ্যে মাত্র কয়েকজন তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।
এক পর্যায়ে সভায় উপস্থিত প্রবাসী সাংবাদিক মাহাফুজুল হক চৌধুরী শ্রম কল্যাণ মন্ত্রীর অনুমতি প্রার্থণা করে বলেন, ‘আমাদের অনেক কথা বলার মত থাকলেও সুযোগের অভাবে বলা হয়ে উঠে না। কারণ আমাদের কথাগুলো সঠিক জায়গায় পৌছায় না।

এরপর মন্ত্রী তাকে আশ্বস্থ করলে তিনি বলেন, আমরা যে শুধু প্রবাসে আসার পর সমস্যার সম্মুখীন হই তা নয়। প্রবাসে আসার সময় আমাদের হাজারটা সমস্যা মোকাবিলা করেই বিদেশে আসতে হয়। এই যেমন আরব আমিরাত সরকার অল্প টাকায় ভিজিট ভিসা দিচ্ছে এবং ভিজিট ভিসা এসে এখানে কাজ করার সুযোগও দিচ্ছে, অথচ আমাদের দেশের প্রশাসন এয়ারপোর্ট কন্ট্রাক্ট ছাড়া আসতে দিচ্ছেনা যার ফলে নিন্মবিত্ত পরিবারের মানুষগুলি বিদেশে আসতে পারছেনা। প্রশাসনের কোনো কোনো কর্মকর্তা বলতে শুনি ভিজিট ভিসায় গিয়ে সেখানে কাজ করে তাই আমরা যেতে দেইনা।
সাংবাদিক মাহাফুজুল হক চৌধুরী মন্ত্রীকে এক প্রশ্নে বলেন, এয়ারপোর্ট কন্ট্রাক্ট ছাড়া গিয়ে কাজ করলে যদি বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুন্ন হয় তাহলে এয়ারপোর্ট কন্ট্রাক্ট করে গেলে কি সুনাম বেড়ে যায়? এবং কয়েকজন এয়ারপোর্টের কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তারা জানায়, উর্ধ্বতন লোকদেরও টাকার ভাগ দিতে হয়। এই সমস্যার শেষ কোথায়?
তার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রথমত এয়ারপোর্ট কন্ট্রাক্টের ব্যাপারে কেউ কোনো অভিযোগ করেনা বলে আমরা কোন ব্যবস্থা নিইনা। উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যারা টাকার ভাগ নেয় অভিযোগ করেছেন অন্তত সেইখানে আমার নামটি নেই। কেননা এয়ারপোর্ট সেকশনের সাথে শ্রম কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কোনো হাত নেই।
মন্ত্রীর উদ্দেশ্য মাহাফুজুল হক চৌধুরী আরও বলেন, আরব আমিরাত সরকার পিসিআর টেস্ট এর জন্য ল্যাব বসাতে বললেও বাংলাদেশ সরকার কোনো কর্ণপাত না করে উল্টো প্রবাসীদের আন্দোলনের উপর চড়াও হয়, কিন্তু দিনশেষে আন্দোলন করার কারণে ল্যাব বসানো হচ্ছে। আন্দোলন করার আগে কেন ল্যাব বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হলনা এবং সবকিছুতেই আন্দোলন কেন করতে হয়?
জবাবে মন্ত্রী বলেন, আসলে আমরা চাইলেও হুট করে ল্যাব বসাতে পারিনা। যদি কোনো ল্যাব দুর্নীতি করে তখন অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশকে আরব আমিরাতের শ্রম বাজার হারাতে হবে এবং যারা দেশে আটকা পড়েছে তারা কেউ আর ফিরে যেতে পারবেনা। তাই সময় নিয়ে আমাদের কাজটা করতে হয়েছে। আর এয়ারপোর্টে পিসিআর টেস্ট করাতে ১৬০০ টাকা খরচ হয় সেটাও আমাদের মাথায় রাখতে হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, রোববার দেশে ফিরে তিনি বিমানবন্দরে করোনা টেস্ট সম্পূর্ণ ফ্রি-তে করে দেওয়ার নির্দেশ দিবেন। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরেও পিসিআরল্যাব বসানোর কাজ দ্রুত শুরু করবেন।
বার্তা বাজার/এসজে