নাটোরের গুরুদাসপুরে প্রেমিকার বাবা ও ইউপি সদস্যের হুমকিতে প্রেমিক মুর্শিদ(১৫) নামের এক স্কুল ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত স্কুল ছাত্র মশিন্দা মাছপাড়া এলাকার ফজলুর রহমানের ছেলে ও মশিন্দা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র।
নিহতের পরিবার অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবেশী আনিসুর রহমানের মেয়ের সাথে মুর্শিদের প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিলো। প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ে মেয়ের পরিবার জানতে পায়। জানাজানি হওয়ার পরে গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে মেয়ের বাবা আনিসুর রহমান,মা শিল্পী বেগম ও দুই নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সেলিম রেজা মুর্শিদের বাড়িতে এসে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়।
এছাড়াও একই দিনে মুর্শিদের বাবা-মাকেও হুমকি দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করেন। প্রাণনাশের হুমকি এবং বাবা-মাকে অপমানের ভার সইতে না পেরে ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে পাশ্ববর্তি তাড়াশ উপজেলার ৮নং ব্রিজ এলাকায় গিয়ে বিষ পান করে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়। খবর পেয়ে আত্মীয় স্বজন তাকে উদ্ধার করে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় নাটোর থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৬ দিন চিকিতসাধীন অবস্থায় গত ১ অক্টোবর দুপুর ১ টার দিকে মৃত্যু বরণ করেন মুর্শিদ।
নিহত মুর্শিদের বাবা ফজলুর রহমান জানান, তার ছেলেকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে। লেখাপড়া চলাকালিন সময়ে প্রতিবেশি আনিসুর রহমানের মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ বিষয়ে আমরা কিছু জানতাম না। সেই সুত্র ধরেই প্রতিবেশি আনিসুর রহমান তার স্ত্রী শিল্পী খাতুন ও ইউপি সদস্য সেলিম রেজা আমাদের বাড়িতে এসে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। সেই কারণের আমার ছেলে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে। আমি অভিযুক্তদের দৃষ্ঠান্তমুলক শাস্তির দাবি জানাই।
এলাকার সমাজসেবক মো.রতন হোসেন জানান, ছোট ছেলে মেয়ে তাদেরকে বুঝিয়ে বললেই সব ঠিক হয়ে যেতো। অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করা ও হুমকীর মত ঘটনার জন্য নিন্দা জ্ঞাপন করছি এবং জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্যের মুঠোফনে ফোন দিলে তিনি বাড়িতে নেই বলে জানান তার স্ত্রী। মেয়ের বাবা-মা পালাতক থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো.আব্দুল মতিন জানান, ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মেহেদী হাসান তানিম/বার্তা বাজার/এসবি