ইনজেকশন না দিয়ে রোগীর চোখে স্যালাইন পুশ!

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) এক রোগীর চোখে ইঞ্জেকশন পুশের পরিবর্তে স্যালাইন পুশের অভিযোগ উঠেছে চক্ষু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. নাইমুল হকের বিরুদ্ধে।

শনিবার (০২ অক্টোবর) সকালে রাজশাহী চেম্বার ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী রোগী লায়লা রশীদের (৬৮) স্বামী রাজশাহী ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি হারুনুর রশীদ।

তিনি বলেন, জীবনরক্ষার জন্য আমার স্ত্রীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছি। হঠাৎ করেই আমার স্ত্রীর ডান চোখে সমস্যা দেখা দেয়। তখন ঢাকায় আই কেয়ার হাসপাতালে একজন বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাই। সেই ডাক্তার জানান, তিন ডোজ ইনজেকশন দিতে হবে এবং এতে খরচ পরবে ৯০ হাজার টাকা।

এরপরেই ঢাকা থেকে আমার স্ত্রীকে নিয়ে এসে রাজশাহীতে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. নাইমুল হককে দেখাই। তিনি বিভিন্ন পরীক্ষার পরে জানান, ইনজেকশন পুশ করতে হবে। তখন আমরা রাজি হয়ে যাই। এরপর তিন ডোজ ইনজেকশন দেওয়া হয়। তিনি ইনজেকশন বাবদ ৪৬ হাজার টাকা নিয়েছেন। এরপর তৃতীয় ডোজ শেষ হবার ১৫ দিন পর আবার পুরনো সমস্যা ফিরে আসে। তখন আমরা আবার ঢাকায় আই ফাউন্ডেশনে নিয়ে যাই।

তিনি আরও জানান, সেখানকার একজন চিকিৎসক বলেন চোখে ইনজেকশন দিতে হবে। তখন আমরা আগের তিন ডোজ ইনজেকশন দেওয়ার এবং পরীক্ষার রিপোর্ট দেখাই। তখন সেই ডাক্তার নতুন করে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানান, রোগীর চোখে কোনো ইনজেকশন দেওয়া হয়নি বরং ডিস্টিল ওয়াটার বা স্যালাইন পানি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা চরম মর্মাহত হই।

এ ঘটনায় জড়ীত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কিনা এমন প্রশের জবাবে হারুনুর রশিদ জানান, ডা. নাইমুল হক তার পূর্ব পরিচিত। তিনি তার সাথেই যে আচরণ করেছেন তাতে বোঝা যায় সাধারণ রোগীরা কতটা অনিরাপদ। তিনি চিকিৎসার মত মহান পেশাকে কলুষিত করেছেন। তাই তিনি ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডা. নাইমুল হক জানান, রাজশাহীতে চোখের রেটিনা নিয়ে মূলত আমিই কাজ করছি। রোগীর পরিবার যে অভিযোগ করছেন, সেটা ভিত্তিহীন। রোগীর চোখের যে অবস্থা ছিল তাতে তিনটি ইনজেকশন দেবার প্রয়োজন ছিল। আমি তিনটি ডোজই সম্পূর্ণভাবে দিয়েছিলাম। রোগীর ভিশন ইম্প্রুভ হয়েছিল। ইনজেকশনের বদলে স্যালাইন পানি দিলে ইম্প্রুভ কিভাবে হতো। ওনারা কেন মিথ্যা অভিযোগ করছেন জানি না।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর