কুমারখালীতে স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি হলো ৭০ ফিট বাঁশের সেতু
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে স্বেচ্ছাশ্রমে ৭০ ফিট দৈর্ঘ্য ও তিন ফিট প্রস্থের গুরুত্বপূর্ণ বাঁশের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী যদুবয়রা মাধ্যমিক ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার জিকে ক্যানালের উপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এতে স্থানীয় প্রায় অর্ধাশিক যুবকরা সপ্তাহখানেক সময় ও শ্রম দিয়েছেন।
এলাকাবাসী জানায়, সেতুটি আকারে ছোট ও বাঁশের তৈরি হলেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। দুইটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ের শতশত শিক্ষার্থী আর কয়েক হাজার গ্রামবাসীর নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতে দিনরাত চলাচলে ব্যস্ত থাকে সেতুটি। কিন্তু এটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্থায়ী ও টেকসই মেরামত না হওয়ায় বছরে কয়েকবার ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে । তখন ভিক্ষাবৃত্তি করে স্থানীয়দের সহযোগীতায় স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত করিয়ে কোনো রকমে কাজ চালিয়ে নেই ভুক্তভোগীরা। এভাবেই যুগ যুগ ধরে এক ভাঙা গড়ার খেলায় মেতে চলে আসছে।
তাঁরা আরো জানায়, প্রতিবছর ভেঙে পড়ার সাথে সাথেই ব্রিজটি মেরামত করা হয়।কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারনে দীর্ঘদিন স্কুল গুলো বন্ধ এবং মহামারীতে মানুষের কাছে অর্থ সংকট থাকায় প্রায় এক বছরের অধিক সময় পর স্বেচ্ছাশ্রমে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীসহ সকল শ্রেণির মানুষ এখন সহজে যাতায়াত করছে।
গত সোমবার, মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় কিছু যুবকরা সেতু তৈরির কাজ করছে। কেউ বাঁশ কাঁটছে, কেউ বাঁশে প্রেরেক লাগাচ্ছে আবার কেউবা কাজে সহযোগীতা করছে। শনিবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, বাঁশের একটি পরিপূর্ণ সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেতু দিয়ে শিক্ষার্থীসহ অনেকে চলাচল করছে।
একাধিক সুত্র জানায়, যদুবয়রা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের প্রধান রাস্তা জয়বাংলা বাজার ও ছাতিয়ান বাজার। প্রধান রাস্তা দুইটি বাজার কেন্দ্রীক ও দুরবর্তী হওয়াই ছাত্রদের জন্য তেমন অসুবিধা না হলেও ছাত্রীদেন নানাবিধ সমস্যা ও ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়। সংগত কারনেই শিক্ষার্থীরা সহজ, ঝামেলামুক্ত ও শর্টকার্ট জিকে ক্যানালের উপর নির্মিত এই বাঁশের সেতু দিয়ে যাতায়াত করে। এছাড়াও ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পুলিশ ক্যাম্প, যদুবয়রা পশুহাটে চলাচলেরও শর্টকাট রাস্তা এটি। প্রতিদিন শতশত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দিনরাত চলাচলের রাস্তা ব্রিজটি।
এবিষয়ে যদুবয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী মিনা খাতুন বলেন, জিকে ক্যানালের এপারে ( পশ্চিম) আমার বাড়ি। এই বাঁশের সেতু পার হয়েই স্কুলে যেতে হয়। কিন্তু প্রতিবছরে কয়েকবার এটি ভেঙে ভোগান্তিতে পরিনিত হয়। ওই স্কুলের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী মারিয়া বলেন, প্রতি বছরই শিক্ষার্থীরা সেতু ভেঙে পানিতে পরে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। মারাত্মক দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। এখানে একটি টেকসই সেতু নির্মাণ হওয়া দরকার।
সেতু দিয়ে চলাচলকারী কলেজ ছাত্র রাসেল হোসেন বলেন, অবশেষে বাঁশের সেতুটি স্থানীয়রা নির্মাণ করেছে। সবাই এখন সহজে চলাচল করছে। তবে পাকা সেতুর দরকার।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান এবং কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় যুগ যুগ ধরে ভোগান্তিতে শত শত শিক্ষার্থী ও কয়েক হাজার জন সাধারন। একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করা হলে এলাকাবাসীর উপকারে আসে।
যদুবয়রা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, যদুবয়রা ভুমি অফিস ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দক্ষিন -পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের চলাচলের প্রধান শর্টকার্ট সড়ক এটি।
যদুবয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুন্সী বজলুর রহমান বলেন, ‘ যদুবয়রা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী ৫৭০ জন এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৯৫০ জন। বাঁশের সেতুটি ভেঙে গেলে ঐ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের উপস্থিতির হার কমে যায় ‘।
যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও যদুবয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ শরিফুল আলম বলেন, সেতু না থাকায় শিক্ষার্থীদের বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিশেষ করে মেয়েদের খুব কষ্ট হয়। তিনি আরো বলেন, এখানে প্রায় ৭৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষার কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকী কাজ গুলো খুব দ্রুতই বাস্তবায়ন হবে।
মোশারফ হোসেন/বার্তা বাজার/এসবি