ডাকাতিয়া নদীর উপর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো, শিশুসহ ২০ আহত
প্রায় ৪০ বছর আগে ডাকাতিয়া নদীর উপর স্বেচ্ছাশ্রমে এ সাঁকোটি স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মান করেছিলেন গ্রামবাসী। কিন্তু নির্মাণের এতো বছরে ৮ ইউপি চেয়ারম্যান বা সংসদ সদস্য ব্রীজ নির্মাণে প্রতিশ্রুতি দিলেও আজও নদির উপর ব্রীজ নির্মান হলো না। এবারের ইউপি নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি না দিলে প্রার্থীদের ভোট দিবো না। ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোটি পারাপার হতে গিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ জন শিশু ও বৃদ্ধ নদিতে পড়ে মারাত্নক আহত হয়েছে।
শনিবার সকালে (২ অক্টোবর) এ সাঁকোর ছবি তুলতে গেলে ভারাক্রান্ত দুঃখ নিয়ে কথাগুলো বললেন সাঁকোর পাশেই কয়েকজন দোকানি, শায়েস্তানগর গ্রামের কৃষক হামিদ মিয়া, বাদশা মিয়া ও সোলাইমান।
সাঁকোটি হলো-লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ১০নং রায়পুর ইউপির দেবিপুর গ্রামের ডাকাতিয়া নদীর উপর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো।।
প্রতিদিন এ সাঁকো দিয়ে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের দেবিপুর, চরমোহনা, চরপাতা, শায়েস্তানগর ও উত্তর রায়পুরসহ ছয়টি গ্রামের মানুষ ডাকাতিয়া নদী উপর দিয়ে যাতায়াত করছে। মুমূর্ষু রোগী, স্কুল-কলেজ- মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী, শিশু-বৃদ্ধ এবং উৎপাদিত ফসল পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্মিত হয়েছে এই বাঁশের সাঁকোটি, সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি কোন জনপ্রতিনিধিরা। ৩০ বছর যাবৎ বিভিন্ন ভাবে আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়নে কেউ এগিয়ে আসেনি। ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সাংসদের দারস্থ হলেও কেউ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। তাই নিজেদের অর্থায়নে বাঁশের সাঁকোটি ঝুঁকি নিয়েই পার হতে হচ্ছে ছয়টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।
রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউল আজম চৌধুরী সুমন জানান, ইউনিয়ন পরিষদের সামনেই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোটি। ব্রীজ নির্মাণের জন্য এমপি ও ইউএনওসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে আবেদন করলেও কোন কাজ হচ্ছেনা।
এলজিইডির রায়পুর কার্যালয়ের প্রকৌশলী মোস্তফা মিনহাজ বলেন, ৭ দিন আগে যোগদান করেছি। তবে উপসহকারি প্রকৌশলী তাজল ইসলাম বলেন, ডাকাতিয়া নদির উপর ঝুকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর স্থানে ব্রীজ নির্মাণের জন্য গত বছর আমাদের কার্যালয় এবং চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর রায়পুরের সাংসদ এডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন সাহেব এলজিইডি মন্ত্রনালয়ে ডিও লেটার দিয়েছেন।
ওসমান গণি /বার্তা বাজার/এসবি