আগামী ২ নভেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পৌরসভা নির্বাচন। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনকে ঘিরে আগাম গণসংযোগ ও প্রচারণা শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। জাতীয় সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের মতোই পাকুন্দিয়া পৌরসভা নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে। তাই আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের একাধিক সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় ইতোমধ্যে নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছেন।
নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগ চালাচ্ছেন। সর্বত্রই আলোচনা হচ্ছে কে পাচ্ছেন মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন।
সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরার জন্য পৌরসভার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ভোটারদের সাথে মতবিনিময় চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজেদের প্রার্থীতা জানান দেওয়ার জন্য পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে পোষ্টার, ব্যানার, মতবিনিময়, মোটরসাইকেল শোডাউন, শুক্রবার বাদ জুম্মা মসজিদে মতবিনিময় করতে দেখা গেছে। আবার কেউ পৌর নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন গ্রামে, মহল্লায়, পাড়ায়, ওয়ার্ডে ছোট ছোট সভা করে ভোটের কর্মী ও সমর্থকদের সংগঠিত করছেন। পৌরসভার উন্নয়নে ভোটারদের নানা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র অনুযায়ী ২০০৬ সনের ২৪ এপ্রিল পাকুন্দিয়া সদর ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী হোসেন্দী ও নারান্দির কিছু অংশ নিয়ে পাকুন্দিয়া পৌরসভার কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু সীমানা নির্ধারণের জটিলতার ফলে সৃষ্ট মামলার ৫ বছর পর পাকুন্দিয়া পৌরসভার প্রথম নির্বাচন ২৭ অক্টোবর ২০১১ সাল অনুষ্ঠিত। নবগঠিত পাকুন্দিয়া পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী অ্যাড. জালাল উদ্দিন বিজয়ী হয়েছিলেন।
দ্বিতীয়বার ২০১৬ সালের ৩১শে অক্টোবর অনুষ্ঠিত এ পৌরসভা নির্বাচনে বর্তমান মেয়ের আক্তারুজ্জামান খোকন নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে ৬ হাজার ৬৪৯ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপি প্রার্থী সাবেক মেয়র এডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন (ধানের শীষ) পেয়েছিলেন ৪ হাজার ৯৭৫ ভোট। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ প্রার্থী তৎকালীন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মেছবাহউদ্দিন (নৌকা) পান ৪ হাজার ৩৪৭ ভোট।
রাজনৈতিক ভাবে পৌরসভাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিধায় আওয়ামী লীগ ক্লিন ইমেজের কাউকে মনোনয়ন দিতে পারেন।
পাকুন্দিয়া পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বাগাতে তদবির শুরু করছেন ৮ জন নেতা।
তাদের মধ্যে রয়েছেন বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মেসবাহউদ্দিন, সাবেক কমিশনার উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য ঘোষিত কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম আকন্দ, বিগত নির্বাচনে তৃণমূলের ভোটে প্রথম হওয়ার পর মনোনয়ন বঞ্চিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাবেক সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোতায়েম হোসেন স্বপন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ মো. বোরহান উদ্দিন, সদ্য ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি ফরিদ উদ্দিন, উপজেলা কৃষকলীগের সাবেক সভাপতি বাবুল আহমেদ, পাকুন্দিয়া আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক জামাল এবং উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি এডভোকেট হাবিবুর রহমান চুন্নু। তারা এখন স্হানীয় সাংসদ, জেলা এবং কেন্দ্রের নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করে যাচ্ছেন নৌকা প্রতীকের আশায়।
অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচন নিয়ে দলীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। যদিও বিএনপির অঘোষিত একক প্রার্থী পাকুন্দিয়া পৌরসভার প্রথম মেয়র, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট জালাল উদ্দীন। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে নির্বাচন করিবেন না বলে জানান এডভোকেট জালাল উদ্দীন।
অন্যদিকে দ্বিতীয়বারে অনুষ্ঠিত এ পৌরসভা নির্বাচনে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও বর্তমান মেয়ের আক্তারুজ্জামান খোকন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত মেয়ের নির্বাচিত হন। এবারের নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
গতবারের মতো এবারএ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেসবাহউদ্দিন জানান, দলীয় মনোনয়ন পেলে এবার তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন। পাকুন্দিয়া পৌরবাসীর সহায়তায় মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, আধুনিক মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবেন তিনি।
মনোনয়ন প্রত্যাশী নজরুল ইসলাম আকন্দ দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নাগরিক সেবা পৌঁছে দিতে মেয়র হিসেবে নয়, একজন সেবক হিসেবে পৌরবাসীর পাশে থাকতে চান। সবদিক বিবেচনা করে আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে এই পৌরসভাটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে চাই। তিনি সাবেক সদর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য এবং পাকুন্দিয়া পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের প্রথম কমিশনার ছিলেন।
আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী মোতায়েম হোসেন স্বপন বলেন, এবার দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। দলীয় মনোনয়ন পেলে দলকে এবার পৌরসভাটি উপহার দিতে পারব ইনশাআল্লাহ।
মেয়ের পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, উপজেলা যুবলীগ, উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ হিসাবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে জেলা কৃষকলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দায়িত্ব পালন করছি। করোনা কালে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আছি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আমাকে মেয়র পদে মনোনীত করিলে বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের যে উন্নয়ন হচ্ছে তার সুফল পাকুন্দিয়া পৌর বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছে দিতে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর পাকুন্দিয়া পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২রা নভেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ৭ম ধাপে আগামী ২রা নভেম্বর পাকুন্দিয়া পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ তারিখ আগামী ৯ই অক্টোবর।
এ ছাড়া মনোনয়নপত্র বাছাই ১১ই অক্টোবর, বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ১২ থেকে ১৪ই অক্টোবর, আপিল নিষ্পত্তি ১৬ই অক্টোবর, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ১৭ই অক্টোবর এবং প্রতীক বরাদ্দ ১৮ই অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
হুমায়ুন কবির/বার্তা বাজার/অমি