কোচায়েলি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি জেলা শহর। এ শহরে আছে উর্মেনিয়া নামে প্রসিদ্ধ একটি প্রকৃতি-সংরক্ষণাগার।
২০১৮ সালের মে মাসে এটি চালু হয়। ৬০ একর জায়গাজুগে বিস্তৃত এ বাগান-ভূমিতে ৭৩ প্রজাতির অন্তত ৯১৬টি প্রাণী আছে। তুরস্ক তো বটেই উর্মেনিয়া প্রকৃতি-সংরক্ষণাগারের সুনাম বিশ্বজুড়ে। এটিকে গোটা ইউরোপের সর্ববৃহৎ প্রকৃতি-সংরক্ষণাগার বিবেচনা করা হয়। স্বচ্ছ প্রকৃতির স্বাদ নিতে দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক এখানে বেড়াতে আসেন।
গত ২০২০ সালে জার্মানি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বুলগেরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড এবং ব্রিটেন-সহ বিভিন্ন দেশের অন্তত ৫ মিলিয়ন দেশি-বিদেশি পর্যটক এখানে ঘুরতে এসেছেন। কতৃপক্ষের বিশ্বাস, করোনার প্রাদুর্ভাব না থাকলে দর্শনার্থী সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারতো। এই বিপুল সংখ্যক পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আনন্দ ও উপভোগ বাড়াতে সম্প্রতি দারুণ এক কাজ করেছে তুরস্ক সরকার।

হেঁটে হেঁটে ক্লান্ত পর্যটক যখন বিশ্রামের জন্য বসবে তখন যেন তাঁর সময়টি কাজে লাগে-এজন্য উর্মেনিয়া প্রকৃতি-সংরক্ষণাগারের অভ্যন্তরে অত্যন্ত সুনিপুনভাবে একটি ‘ফরেস্ট লাইব্রেরি’ বা বাগান-পাঠাগার নির্মাণ করেছে তারা। এখন থেকে সেখানে প্রকৃতির কোলে বসে বই পড়ার নির্মল স্বাদ পাবেন পাঠক-পর্যটকরা।
ল্যামপোস্টের আলো যেমন রাস্তার দুপাশকে আলোকিত করে ঠিক তেমন-ই এখানেও রাস্তার দুপাশে গাছের গুড়ি দিয়ে তৈরি চমৎকার বইয়ের তাকগুলোয় রাখা ২১টি বিষয়ের অন্তত ২ হাজার বই দর্শনার্থীদের মননে আলো বিতরণ করবে। ইচ্ছে হলেই সেখান থেকে বই নিয়ে পছন্দমতো জায়গায় বসে তা পড়া যাবে।
এখানে অনেক বয়স্ক গাছ আছে-এরমধ্যে একটি প্লাটানুস গাছের বয়স দেড়শ’ বছর। বিশালায়তন এ গাছগুলোর গায়ে অত্যন্ত শৈল্পিক উপায়ে বইয়ের তাক বানানো হয়েছে। লাইব্রেরিতে রয়েছে একটি প্রাকৃতিক চত্বর, তাকে কেন্দ্রকরে তিনটি অনিন্দ সুন্দর পাঠকক্ষ, চত্বর ও কক্ষগুলোতে পাঠকদের বসার জন্য ইজি চেয়ার, দোলনা, সুদৃশ্য হ্যামক-সহ নানা রকমের আসনের ব্যবস্থা আছে। এ পাঠাগারে একসঙ্গে পড়তে পারবেন প্রায় ২শ’ পাঠক।
জুলাইয়ের শুরুতে এক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে এটির উদ্বোধন করেন কোচায়েলির মেয়র তাহের বুয়ুক আকন। তিনি বলেন, বিশ্বে এ পাঠাগারটি অনন্য এবং তুরস্কে এটিই প্রথম। পর্যটকরা যাতে প্রকৃতির কোলে বসে পড়তে পারে-সেদিকে লক্ষ্য করেই আমরা এটি বানিয়েছি।
বার্তা বাজার/অমি