মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন কারণে অবৈধ হয়ে আটক এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনর দায়ে সাজা ভোগ করছেন প্রায় ১৬৭৮ জন বাংলাদেশি অভিবাসী। এই ১৬৭৮ আছে জেলখানা ও ডিটেনশন ক্যাম্পে এদের মধ্যে বিভিন্ন কারণে অবৈধ হয়ে আটকের সংখ্যাই বেশি।
অনেকের জেলখানায় সাজা শেষ করে দেশটির বিভিন্ন ডিটেনশন ক্যাম্পে দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। জনশ্রুতি আছে সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মত আচরণের কারণে বন্দিরা মানবেতর জীবনযাপন করছে।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক খায়রুল জাজাইমি দাউদ এক বিবৃতিতে বলেন ২০২০ সালে বিভিন্ন দেশের ১০৫ জন বন্দি মারা গেছেন এর মধ্যে ৩ জন বাংলাদেশি রয়েছে। বন্দিদের সাথে স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ এর কোন সুযোগ নেই। যতদিন ভেতরে থাকবে ততদিন বাইরের পৃথিবীর সাথে কোন যোগাযোগ করার কোন সুযোগ থাকে না। তবে ভেতরে বন্দিদের সাথে আদতে কি হচ্ছে বাইরে এসে কেউ প্রকাশ করতে চান না।
অনেকের অনেক সময় সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যথা সময়ে বিজ দেশে ফেরত যেতে পারেন না বিভিন্ন জটিলতার কারণে। যেমন, পর্যাপ্ত তথ্য প্রমানাদির অভাব, পাসপোর্ট আছে মেয়াদ নাই, আবার কারো সাথে কোন ডকুমেন্টস ই নাই, নিজ খরচে বিমানের টিকিট করতে না পারা, নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে দূতাবাস থেকে যে ডকুমেন্টস পাঠানোর কথা তা সময়মত পাঠানো হয় না অনেক সময় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
তবে দূতাবাস বলছে দেরি হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে যারা পাসপোর্ট ছাড়া আটক হন তাদের তথয় ডিটেনশন সেন্টারে পাঠাতে হলে আগে দেশ থেকে তার নিজ এলাকার প্রশাসন থেকে প্রমান জোগার করতে অনেক সময় লেগে যায়। আবার দেখা গেছে সব ডকুমেন্টস আছে কিন্তু টিকিট কেনার পয়সা নাই।

সরেজমিনে খোঁজ খবর ও বন্দিদের স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মালয়েশিয়ায় আটকের পর সাজা হলে ঘাটে ঘাটে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ডকুমেন্টস সংগ্রহ সহ নিজ দেশে ফেরা পর্যন্ত এই ভোগান্তির কোন শেষ নেই। কারণ যে লোকটা জেলে বন্দি আছে মালয়েশিয়ায় গার কোন স্বজন নেই এবং বাইরের পৃথিবীর সাথে তাদের কোন সংযোগ নেই সে কিভাবে দূতাবাস থেকে তার ডকুমেন্টস সংগ্রহ করবে? আবার বিমান টিকিট ক্রয় করবে? এসব অসংগতির কারনেই প্রত্যাবর্তন মাসের পর মাস বছর পর্যন্ত গড়ায়। যখন সে খালি হাতে ধরা পড়লো সে কোথায় পাবে টিকিট কেনার হাজার হাজার রিংগিত? তাদের স্বজনরা দাবি করেছেন বন্দিদের যেন সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। যেমনটি করেছেন গত সপ্তাহে মায়ানমারের জান্তা সরকার। জান্তা সরকার সামরিক বিমান পাঠিয়ে তার দেশের জেল বন্দিদের ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অবৈধ হয়ে কিংবা অভিবাসন আইন লঙ্ঘন দায়ে আটক হলে প্রথমে তাদের ১৪ দিনের রিমান্ডে রাখা হয়। তারপর ১৪ দিন শেষে আদালতে হাজির করে সাজা ঘোষণা করার পর জেলখানায় সাজা ভোগ করতে হয়। জেলখানার সাজা শেষ হলেই ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয় অনিদিষ্ঠ সময়ের জন্য দেশে ফেরার অপেক্ষায়।
দূতাবাসের একজন সিনিয়র কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে এ বিষয়ে কিছুই বলতে রাজি হননি পরে নাম প্রকাশ করার শর্তে রাজি হয়ে তিনি বলেন, যাবতীয় প্রকৃয়া মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে। যাদের ভ্যালিড পাসপোর্ট আছে তাদের ইমিগ্রেশন সরাসরি দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়, এ ক্ষেত্রে হাইকমিশনে কোন কাজ নেই। এরমধ্যে কেবল যাদের ভ্যালিড ট্রাভেল ডকুমেন্ট নেই বা পাসপোর্ট এর মেয়াদ শেষ হওয়ার ফলে ট্রাভেল পারমিট দরকার তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাভেল পারমিট টিপি ইস্যু করা হয়।
এ ক্ষেত্রে ব্যাক্তি যে ক্যাম্পে থাকেন সেই ক্যাম্পের মাধ্যমে টিপি আবেদন হাইকমিশনে প্রেরণ করে। এরপর হাইকমিশন আবেদনে উল্লেখিত তথ্য, পাসপোর্ট তথ্য যাচাই করে নাগরিকত্ব নিশ্চিত হয়ে টিপি ইস্যু করে। হাইকমিশন থেকে নিয়মিত ক্যাম্প ভিজিট করে বাংলাদেশি নাগরিক সাক্ষাৎকার নিয়ে দ্রুত দেশে প্রেরণ নিশ্চিত করা হয়।
মালয়েশিয়ায় মায়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক অনেক সময় বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে ট্রাভেল পারমিট নেওয়ার আবেদন করে। তাদের আবেদন যাচাই করে বাতিল করে দেওয়া হয়। করোনা আক্রান্ত হওয়া এবং নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল না থাকায় দেশে ফেরত প্রেরণ অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব হয়।
এদিকে সংশ্লিষ্ট বন্দিদের আত্মীয় স্বজনরা সরকারের কাছে দাবি করেছেন বাংলাদেশি বন্দিদের সরকারি খরচে যেন নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
আশরাফুল মামুন/বার্তা বাজার/অমি