জিয়ার আমলে ‘অবৈধভাবে’ ফাঁসি দেওয়া সামরিক অফিসারদের তালিকার দাবি
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে সামরিক আদালতে ফাঁসি দেওয়া সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের তালিকা প্রকাশের সাবি জানিয়েছে নিহতদের পরিবার।
শুক্রবার (০১ অক্টোবর) পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে এক আলোচনা সভায় ক্ষতিগ্রস্থ ১২০টি পরিবার এই দাবি জানান। এর সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবির পাশাপাশি জিয়াউর রহমানের সমাধি সরিয়ে নেওয়ার দাবিও তারা জানান। আলোচনা সভায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা আগামী ৭ নভেম্বর ক্যান্টমেন্ট অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি গ্রহণ করে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আমরা সবাই হতভাগ্য সন্তান। ৪৪ বছর আগে নিহত দেশপ্রেমিক সেনা ও বিমান বাহিনির সদস্যদের হত্যার শাস্তির দাবিতে আজ আমরা একত্রিত হয়েছি। ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর জাপানি বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় ঢাকা বিমানবন্দরে কথিত বিদ্রোহ দমনের নামে তখনকার স্বৈরশাসক জিয়ার নির্দেশে অসংখ্য বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসি দেওয়া হয়।
তারা বলেন, রাতের আধাঁরে কারফিউ ঘোষণা করে কার্যকর করা হয় ফাঁসি। ধর্মীয় বিধি নাম মেনে মরদেহগুলোকে মাটিচাপা দেওয়া হয় আজিমপুর কবরস্থানে। দীর্ঘদিন পরিবারগুলোর কাছে এই তথ্য অজানা ছিল। আমরা জানি না কোথায় আমাদের পিতা, স্বামী কিংবা ভাইয়ের কবর।
উপস্থিত বক্তারা বলেন, আমরা জানি, পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির মঞ্চে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমান ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের। কালের রাজস্বাক্ষী হিসেবে ফাঁসির মঞ্চটি এখনও আছে। খুনি জিয়ার নিষ্ঠুরতার সাক্ষী সেই ফাঁসির মঞ্চে আমাদের পিতা, সন্তান কিংবা স্বামীর জীবনপ্রদীপ নিভে যায়। আমরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই এবং রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ডের শিকার মানুষগুলোকে নির্দোষ হিসেবে দায়মুক্তি দেওয়ার দাবি জানাই।
বার্তা বাজার/এসজে