ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার আমিনাবাদ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে ভাড়াবাসায় শাহনাজ (২৮) নামের এক গৃহবধুকে স্বাসরোধ করে হত্যার পর ঘরে তালা দিয়ে পালিয়েছে মিলন নামের পাষন্ড স্বামী।
খবর পেয়ে চরফ্যাসন থানা পুলিশ গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করে শুক্রবার সকালে ভোলা মর্গে পাঠানো হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আমিনাবাদ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে স্বামীর ভাড়াবাসায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত শাহানাজ ওই এলাকার সিদ্দিক মাঝির মেয়ে
এ ঘটনায় গৃহবধুর বাবা সিদ্দিক মাঝি বাদী হয়ে জামাতা মিলনসহ অজ্ঞাত আরো ৪ জনকে আসামী করে চরফ্যাসন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও পরিবার সুত্রে জানাযায়, নিহত শাহানাজ পেশায় গামেন্টর্স কর্মী ছিলেন। ঢাকায় থাকার সুবাধে ৪ বছর আগে কুষ্টিয়া জেলার মিলন নামের এক যুবকের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীকে নিয়ে আমিনাবাদ ইউনিয়নের শ্বশুর বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন যুবক মিলন। মিলন শারিরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার কারনে ভিক্ষাভিত্তি করে সংসার চালাতেন। বৃহস্পতিবার বিকালে স্বামী মিলনের সাথে তার সাংসারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া বাধে। ওই ঝগড়ার জের ধরে সন্ধ্যায় মিলন তাকে স্বাসরোধ হয়ে হত্যা করে। স্ত্রীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশ ঘরের বিছানায় ফেলে রেখে বসত ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যান মিলন।
গৃহবধুর ভাই শাখাওয়াত জানান, সন্ধ্যায় দুলাভাই মিলন তাকে মোবাইল ফোনে জানান তার বোন গলায় ফাঁস দিয়েছে। দুলাভাইয়ের দেয়া এমন খবর পেয়ে বোনকে উদ্ধারে ছুটে গেলে ঘর তালাবদ্ধ দেখেন। এবং ঘরের জানালা দিয়ে বিছানার ওপর বোনের নিথর দেহ পরে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। চরফ্যাসন থানা পুলিশ তালাবদ্ধ ঘরের বিছনার ওপর থেকে বোন শাহানাজের লাশ উদ্ধার করেন।
চরফ্যাসন থানার ওসি মো. মনির হোসেন মিয়া জানান, এঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য ভোলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের নাকে, মুখে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আসামী গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।
আরিফ হোসেন/বার্তা বাজার/এসবি