রাজশাহীতে স্কুল-কলেজ ছেড়ে আড্ডায় শিক্ষার্থীরা

বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টা। রাজশাহী নগরীর পদ্মাগার্ডেন থেকে শুরু করে বড়কুঠি মসজিদের সামনের এই দুই মিনিটের পথে আধাঘণ্টার ব্যবধানে শতাধিক স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীর পদচারণা ছিলো। যেখানে কেউ সিগারেটের ধুয়ো ছাড়িয়ে হাঁটছে। আবার স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই বন্ধু-বান্ধবীদের নিয়ে গায়ের সঙ্গে গা লাগিয়ে ধুয়োয় বুঁধ হয়ে গল্প আড্ডায় মাতছে। নোংরা ভাষায় অপর বন্ধুকে সম্বোধন করে সিগারেটের ধুয়োর দাওয়াতও দিচ্ছে।

স্কুল-কলেজের ক্লাসের নাম করে ইউনিফর্ম পরেই এভাবেই বিস্তীর্ণ পদ্মাপাড়ে আড্ডা জমাচ্ছে শিক্ষানগরী রাজশাহীর অনেক শিক্ষার্থী। আর এসব বিনোদন স্পটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই থাকছে না। এতে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, দীর্ঘ সময় পরে সরকার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় প্রস্তুতি নিয়ে স্কুল-কলেজগুলো খুলে দিয়েছেন। পর্যায়ক্রমের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই খুলে দেবেন। এখানে সরকার স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। স্কুল-কলেজগুলোতে এবিষয়ে কড়াকড়ি নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে বিনোদন স্পটগুলোতে অনেক শিক্ষার্থীই আড্ডা জমাচ্ছে। অনেকে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে আড্ডায় মাতছে। যেটা অনাকাক্সিক্ষত। এই পরিস্থিতির উত্তরণে অভিভাবকদের ভূমিকা রাখার পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষকসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন শিক্ষাবিদরা।

রাজশাহী কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও শিক্ষাবিদ হবিবুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় পর পর্যায়ক্রমে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু কতিপয় শিক্ষার্থী ক্লাস শেষ করে ও ক্লাস ফাঁকি দিয়ে পদ্মাপাড়সহ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে আড্ডা জমাচ্ছে। এতে শিক্ষানগরীর সুনাম নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব শিক্ষার্থীদের শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়ে মাদকাসক্ত হওয়ার শঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, এক্ষেত্রে আমাদের অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যে মনিটরিং কমিটি আছে তারও এসব বিষয়গুলো খোঁজখবর নিয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সচেতন করতে পারেন। করোনার আগে রাজশাহী কলেজ কর্তৃপক্ষ পদ্মাপাড়ে এরকম একটি ব্যবস্থাও নিয়েছিলেন। অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও এমন পদক্ষেপ নিতে পারে। এছাড়া বিনোদন স্পটগুলোতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলাকালীন সময়ে আড্ডা জমাতে না পারে বা মাদকের প্রতি আকৃষ্ট হতে না পরে সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে সুনজর দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রাজশাহী কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ পড়াশোনা শেষ করে রাজশাহীতে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পদ্মাগার্ডেনের নিকটেই মেসে থাকার সুবাদে প্রায়শই বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে আড্ডা দিতে আসেন। পদ্মাপাড়ের বিনোদন স্পটগুলোতে স্কুল-কলেজের বিশেষ করে ইন্টার ফাস্ট-সেকেন্ড ইয়ারের শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় এমন কিছু চিত্র তিনি দেখতে পান যা কখনোই শান্তির শিক্ষা নগরী রাজশাহীতে কাম্য নয়। বর্তমানে এগুলো আরও বেশি দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

রাজশাহী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক বলেন, শিক্ষা ও শান্তির নগরী রাজশাহীতে করোনার বিভীষিকা মুছে স্কুল-কলেজগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধিকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তারা সকাল ৮ টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত কয়েকটি শিফটটে ক্লাস নিচ্ছেন। রাজশাহী কলেজের কোনো শিক্ষার্থী একবার ঢুকলে ক্লাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ক্লাস শেষেও কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়। যেন তারা কোথাও আড্ডা না দিয়ে বাসায় চলে যায়। তবে পদ্মপাড়ে অন্য কলেজগুলো থেকে হয়তো শিক্ষার্থীরা আড্ডা দিতে পারে। এক্ষেত্রে অভিভাবক, প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্বোডের চেয়ারম্যান ড. মকবুল হোসেন জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধিসহ অন্যান্য বিষয়ে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সচেতন করছেন। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে শিক্ষার্থীরা কী করছে সেটা তাদের পক্ষে মনিটর করা অনেক সময় সম্ভব হয়ে উঠে না। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের মুখ্য ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে বিনোদন স্পটগুলোতে প্রশাসনের নজরদারিও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, এবিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিভাবকের পক্ষ থেকে অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বিনোদন স্পটগুলোতে পুলিশের টহল টিম কাজ করছে।

রাজশাহী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শরিফুল হক জানান, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। আমাদের ভ্রাম্যমান মোবাইল টিম আছে। তারা খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

মাহাবুল ইসলাম/বার্তা বাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর