করোনার টিকা না থাকায় গত দুইদিন থেকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য টিকা প্রদান কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। এছাড়া গত তিনদিন ধরে অনলাইনে বন্ধ রয়েছে নিবন্ধন কার্যক্রম। ফলে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তিতে পরেছেন টিকা গ্রহণে আগ্রহী ব্যক্তিরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে ওই হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে টিকা ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম চলে। ওইদিন প্রতি ইউনিয়নে এক হাজার পাঁচশ’ জন হিসেবে পাঁচটি ইউনিয়নে মোট সাত হাজার পাঁচশ’ জনকে টিকা দেওয়ার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু দিন শেষে টিকা প্রয়োগের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৩৫১জনে। ওইদিন লক্ষমাত্রার চেয়ে ১৮৫১জনকে বেশী টিকা প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে নির্ধারিত দিনে হাসপাতাল কেন্দ্রে টিকা নিতে এসে টিকা না পেয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন টিকা প্রত্যাশীরা। বাগধা গ্রামের মালতী রানী অভিযোগ করে বলেন, নিবন্ধন করার একমাস পর আমি টিকা গ্রহণের জন্য এসএমএস পেয়ে আসলেও এসে শুনি টিকা নেই। টিকা নেই তাহলে লোকজনকে এসএমএস দিয়ে ডেকে এনে ভোগান্তিতে ফেলার মানে কী?
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লোকজন প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের টিকা টিকা গ্রহনের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কেন্দ্রে আসলে তাদের টিকা না থাকায় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়ে দেন সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনার টিকা গ্রহণের জন্য অনলাইনে নিবন্ধন কার্যক্রম গত তিনদিন ধরে সার্ভার ত্রুটির অযুহাতে বন্ধ রয়েছে। ফলে গণটিকা নেওয়া ব্যক্তিসহ নতুন করে টিকা গ্রহণে আগ্রহী ব্যক্তিরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকানে নিবন্ধন করতে এসে নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
মেডিক্যাল টেকনোলজিষ্ট (ইপিআই) মিজানুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকার চালান শেষ হয়ে গেছে। পাশাপাশি জেলা সিভিল সার্জন অফিসের ডিপোতেও বরাদ্দকৃত টিকার মজুত শেষ হয়েছে। এ কারনে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য টিকা প্রদান কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ বখতিয়ার আল মামুন বলেন, টিকা শেষ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে টিকা বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পত্র দিয়ে জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নতুন করে যতোদিন টিকা না আসবে ততোদিন টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ রাখা ছাড়া কোনো উপায় নেই।
আরিফিন রিয়াদ/বার্তা বাজার/এসবি