পীরগঞ্জের করতোয়া নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলাকে বিভক্ত করে প্রবাহিত করতোয়া নদীতে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনের ফলে ওই এলাকার ৩ ইউনিয়নের ১০ গ্রামে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়িসহ শত শত একর আবাদী জমি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, করতোয়া নদী হতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালুগুলো স্তুপ করে রাখা হয়েছে নদীর ধার ঘেঁষে। সেগুলো ১০ চাকার ড্রাম ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এছাড়াও জয়ন্তিপুর নির্মাণাধীন সেতু ও কাঁচদহ ওয়াজেদ মিয়া সেতু’র আশ-পাশসহ গোটা উপজেলার প্রায় ৪০টি পৃথক স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

যত্রতত্রভাবে বালু উত্তোলনের ফলে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে চতরা ইউনিয়নের কুমারপুর, মাটিয়াল পাড়া, কুয়াতপুর, পাড় কুয়াতপুর, বদনাপাড়া,বড় আলমপুর ইউনিয়নের বাঁশ পুকুরিয়া, রামনাথপুর, শিমুলবাড়ী ও টুকুরিয়া ইউনিয়নের জয়ন্তিপুর, বিছানা, বোয়ালমারী,পার-বোয়ালমারী ও সুজারকুটি গ্রামে। প্রায় শত শত হেক্টর ফসলী জমি ও বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে।

অবৈধ পন্থায় বালু উত্তোলন করলেও প্রশাসন কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না মর্মে অভিযোগ এলাকাবাসীর। করতোয়া পাড়ের বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন, আবু বক্কর, আব্দুর রহিম গৃহবধু নাজমা, ছামসুন্নাহার এ প্রতিবেদককে বলেন, খালাশপীর জয়ন্তিপুর ঘাটে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালীরা। প্রশাসনকে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করেও কোন কাজ হয়নি। আমরা মূলতঃ প্রভাবশালীদের কাছে অসহায়।

বালু উত্তোলনের ফলে নদী পাড়ের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক নয়া মিয়া, সাহেব আলী ও মোনাজ্জল হোসেন বলেন, নদী হতে বালু উত্তোলনের ফলে আমাদের ফসলী জমি নদীতে ভেঙ্গে গেছে। আমাদের মত প্রায় শতাধিক মানুষ নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয়রা বলেন, খালাশপীর জয়ন্তিপুর ঘাট হতে নিষিদ্ধ ১০ চাকার ড্রাম ট্রাক দিয়ে অবৈধ বালু বহণ করা হচ্ছে। এর ফলে ভেঙ্গে যাচ্ছে স্থানীয় রাস্তাগুলো। ফাটল দেখা দিয়েছে পীরগঞ্জ-নবাবগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে।

অবৈধ বালু উত্তোলনকারী আরিফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা বালু উত্তোলন করছিনা। তবে গত বছরের বালু উত্তোলন করা ছিল সেগুলো বিক্রি করছি। অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বালু উত্তোলনে কিষের আবার অনুমতি! আমি অবৈধ বালুর সাথে সম্পৃক্ত নই।

বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কয়েকজন অবৈধ বালু উত্তোলনকারীর সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তারা কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এ ব্যাপারে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিরোদা রাণী রায়ের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে তার অফিস সূত্র জানায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেশ ক’দিন ধরে শারিরীক অসুস্থ্যতায় ভুগছেন।

মোঃ আনজারুল হক/বার্তা বাজার/এসবি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর