ময়লা ফেলা নিষেধ সাইবোর্ড থাকার পরেও ‘ময়লার ভাগাড়’
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক। বাইপাইল ব্রিজের একটু সামনে, মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী’র নির্দেশ সম্বলিত একটি নিঃসঙ্গ সাইনবোর্ড দেখতে পাওয়া যাবে। সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে সতর্কবাণী রয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সাইনবোর্ডের সতর্কবাণীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছে ময়লা ফেলার একটি চক্র।
সরেজমিন দেখা যায়, বাইপাইলের শাহরিয়ার গার্মেন্টস এর বিপরীতে নবীনগর-চন্দ্রা মহসড়কের পশ্চিম পাড়ে হাবিব সিএনজি থেকে টিএস সিএনজি পাম্প পর্যন্ত দুর্গন্ধযুক্ত ময়লায় সয়লাব। স্থানীয় বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে মাসিক টাকার চুক্তিতে একটি চক্র নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে, সওজ এর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এভাবে মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলছে। ফলে এই পথ দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াতকারী হাজারো মানুষের দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস উঠবার উপক্রম!
প্রতিদিন এই পথ দিয়ে ইপিজেডে যান পোশাক শ্রমিক আলতাফ হোসেন। তিনি জানান, ময়লার গন্ধ এখন আমাদের কাছে স্বাভাবিক ব্যাপার। প্রতিদিন দুইবার এই পথে যাতায়াত করি। জ্যামের সময় দম বন্ধ হয়ে আসে। দেখবে কে, কেউ কি আছে?
গৃহবধূ আমেনা বেগম জানান, রাস্তার পাশে এভাবে ময়লা ফেলাটা কতটুকু সমীচীন? আমাদের যে যাতায়াতে কষ্ট হয়, সেটা দেখে না কেউ। স্থানীয় একটি স্কুলের সহকারী শিক্ষক আলতাফ হোসেন নিজের ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, আপনারা লিখে আর কি করবেন? অনেক নিউজ তো হলো, কিন্তু ময়লা ফেলা কি বন্ধ হয়েছে? এমনতো না যে আজই ময়লা ফেলছে, দিনের পর দিন চলছে এভাবে ময়লা ফেলা।
মুঠোফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গাউস-উল-হাসান মারুফ জানান, ময়লা ফেলার এটা একটা জাতীয় সমস্যা। এবিষয়টি যদি বন্ধ করতে হয়, প্রথমেই দেখতে হবে ময়লাটা কে ফেলছে। আমরা দেখেছি, বাসাবাড়ি থেকে একটি চক্র এভাবে ময়লা সংগ্রহ করে, ছোট ছোট ভ্যানে করে মহাসড়কের পাশে সওজের জায়গায় ফেলছে। আরেকটি গ্রুপ হলো পৌরসভা।
তাদের কিছু পিক-আপে করে নিয়ে এসে তারাও সওজের জায়গায় ময়লা ফেলে। আমরা এটা বন্ধ করার চেষ্টা করেছি, পুলিশের সাথে আলাপ করেছি, বিভিন্ন সময় ফিল্ডে যেয়ে যারা ময়লা ফেলে তাদের হাতেনাতে ধরেছি। আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট তাদেরকে জরিমানা করেছেন। এমনকি ময়লা ফেলায় পৌরসভার গাড়ির বিরুদ্ধেও জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু ময়লা ফেলা তো বন্ধ হচ্ছে না। আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট চলে যাচ্ছেন, আগের চেয়ে এবার আরও বেশী করে ময়লা ফেলছে ওই চক্র!
‘আপনাদের ময়লা না ফেলার সাইনবোর্ডটিই তো ময়লায় ডুবে আছে, বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?’- এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গাউস-উল-হাসান মারুফ বলেন, আসলে স্থানীয়ভাবে জনসচেতনতা সৃষ্টি ছাড়া এটা রোধ করা সম্ভব হবেনা। পাশাপাশি পুলিশকেও এবিষয়ে একটা বড় ভূমিকা নিতে হবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় থানা এবং হাইওয়ে পুলিশ ভূমিকা রাখতে পারে। বাস্তবে এক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ ছাড়া এর কোনো সমাধান দেখছি না। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পদক্ষেপ নিলে বিষয়টি রোধ করা সম্ভব।
এব্যাপারে মুঠোফোনে সাভার হাইওয়ে থানার ওসি সাজ্জাদ-উল-করিম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি এব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সওজ এর জায়গায় জনচলাচলের পথে ময়লা ফেলার বিষয়টি সওজ এর ঢাকা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আল মামুনকে মুঠোফোনে জানানো হয়। তিনিও বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পলাশবাড়ী পশ্চিম পাড়ার জনৈক আলম এর নেতৃত্বে একটি ময়লা ফেলার চক্র এভাবে বাসাবাড়ি থেকে টাকা নিয়ে অবৈধভাবে মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলছে।
প্রতিদিন এই পথ দিয়ে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ জোন (ডিইপিজেড) এর বিভিন্ন কারখানায় চলাচলকারী হাজার হাজার পোশাক শ্রমিকদের এবং অন্যান্য পথচারীদের প্রতিদিনের বিড়ম্বনার নীরব সাক্ষী ময়লা ডুবে থাকা সওজ এর ওই সাইনবোর্ডটি! সাধারণ মানুষের ন্যুণতম নাগরিক সুবিধার নিশ্চয়তাটুকু হারিয়ে যাচ্ছে এরকম আলম এবং তার থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহনকারী পেছনের শক্তিশালী কিছু মানুষের কারণে।
মোঃ আল মামুন খান/বার্তা বাজার/টি