বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত রাঙ্গাবালী
বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত দেশের প্রতিটি প্রান্ত। খাল-বিল এবং বিস্তীর্ণ মাঠ পেরিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলেও লেগেছে বিদ্যুতের ছোঁয়া। আলোকিত হয়েছে দুর্গম উপকূলীয় জনপদ থেকে চরঞ্চল, হাওড়-বাওড়-বিল সব এলাকা। আঁধার কেটে আলোর পথে যাত্রা শুরু করেছে চর লের প্রান্তিক মানুষ।
তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গোপসাগর মোহনা জেগে ওঠা দীপ ছোট্ট রাঙ্গাবালী। পটুয়াখালীর উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি মিলেছে অনেক আগেই। কিন্তু বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হওয়াতে এতদিন জ্বলেনি বিদ্যুতের আলো। তবে চলমান বছরে সব বাধা অতিক্রম করে দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে পটুয়াখালীর বিদ্যুৎবিহীন জনপদ রাঙ্গাবালীতে নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে পৌঁছানো হয়েছে বিদ্যুৎ। ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দ্বীপের ২৪ হাজার পরিবার আলোকিত হচ্ছে বিদ্যুতের আলোয়। এতে খুশিতে আত্মহারা উপজেলাবাসী।
জেলা শহর পটুয়াখালী থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে নদীবেষ্টিত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন উপজেলা রাঙ্গাবালী। ২০১১ সালের ৭ জুন ন্যাশনাল ইপপ্লিমেন্টেশন কমিটি ফর এ্যাডমিনিস্ট্রেশন রিফর্মের ১০৫ তম সভায় রাঙ্গাবালী উপজেলা হিসাবে প্রশাসনিক অনুমোদন লাভ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলা হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এবং এর শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দীর্ঘদিন উপজেলাটিতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন সংযোগ না থাকা এবং সৌর বিদ্যুৎ সেবার কারণে স্বাভাবিক জীবনধারায় তেমন বাধা না এলেও অর্থনৈতিক বিস্তারে মারাত্মক প্রভাব পরেছিল উপজেলাটির উপর। অবশেষে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর চলমান বছরে বিদ্যুৎ সঞ্চালন সংযোগ পৌঁছে গিয়েছে উপজেলাটিতে। ফলে বিদ্যুৎ আলোর হাতছানিতে আনন্দিত এলাকাবাসী। বিদ্যুৎ আসায় এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ প্রযুক্তি ব্যবহারে আসবে সুফল, ধারণা উপজেলাবাসীর।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, নদীর তলদেশ দিয়ে ৯ কিলোমিটার সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়েছে ১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি উপকেন্দ্র। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৯৫০ জন গ্রাহককে এবং বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে আরো সাড়ে ২৯ হাজার গ্রাহক।
সদর ইউনিয়নের বাহেরচর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল-ইমরান জানান, তাঁদের ঘরে কখনো বিদ্যুতের আলো জ্বলবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি। বিদ্যুৎ পাওয়ায় উপজেলার মানুষের জীবনযাত্রার মানে পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন তিনি।
রাঙ্গাবালী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন নেছার বলেন, দীর্ঘদিন প্রতীক্ষার পর রাঙ্গাবালীতে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। এটা আমাকে সত্যিই আনন্দিত করে। কারণ শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় আমরা দীর্ঘদিন এই সমস্যায় ভুগছি। আজ আমরা বিদ্যুৎ পেয়ে অনেক খুশি। ধন্যবাদ জানান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে।
চরমোন্তাজ ইউনিয়নের সুজন মৃধা জানান, চরমোন্তাজ বিদ্যুৎ আছে তো দূরের কথা, রাঙ্গাবালীতে বিদ্যুৎ আসবে এটা আমি কখনো ভাবিনি; সত্যিই আমি বাকরুদ্ধ। আজ নিজেকে সত্যিই একজন বাংলাদেশের নাগরিক বলে মনে হচ্ছে। কারণ চরঞ্চলে বসবাস করেও আমরা সরকারের দেওয়া সেবার অন্তর্ভুক্ত হতে পেরেছি।
রাঙ্গাবালীর বাহেরচর বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে তাদের পন্য সংরক্ষণে অনেক অসুবিধা হতো। কিন্তু বিদ্যুৎ পৌঁছানোর পর তারা এ সমস্যা থেকে রেহাই পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন অনেকে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মু. সাইদুজ্জামান মামুন খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা বিদ্যুৎ সেবা থেকে বিঞ্চিত হয়েছি। কিন্তু এইবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে দেশের প্রত্যন্ত অ লেও পৌঁছেছে বিদ্যুতের আলো। তারই ধারাবাহিকতায় রাঙ্গাবালীতে পৌঁছে গেছে বিদ্যুতের আলো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের জন্য তিনি উপকূলবাসীর মনিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছেন। তাকে উপকূলবাসী পক্ষ থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞ। আমরা তার দীর্ঘায়ু ও সর্বদা সুস্থতা কামনা করছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, বিগত একযুগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বিদ্যুৎ খাতের অভাবনীয় সাফল্যের জন্য বাতিঘর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। রাঙ্গাবালীতে বিদ্যুৎ আসবে এটা উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল তা সত্যি হলো। পল্লী বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত আজকের রাঙ্গাবালী উপজেলা। এই বিদ্যুতের কারণে এখানকার মানুষ অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রার মান আরো সমৃদ্ধ হবে।
সাইফুল ইসলাম সায়েম/বার্তা বাজার/টি