নীলফামারী ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের ছোটখাতা ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে চাষাবাদ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একসময়ে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় প্রাণচাঞ্চল্যে দিনভর মুখর থাকতো স্কুলের মাঠটি। এখন সেই স্কুলের খেলার মাঠটি দখল করে অত্র প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্যের ভাই আজগার আলী ও আরেক দাতা সদস্যর ছেলে তাইজুদ্দিন। তারা উভয়েই ট্রাক্টর দিয়ে চাষাবাদ করে স্কুলটির মাঠ দখল করে।
প্রতিষ্ঠানটির খেলার মাঠের বর্তমান চিত্র দেখে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে গ্রামবাসী, কোমলমতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। জোরপূর্বক শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বন্ধ করে এমন কাজ করায় অভিযুক্ত দুইজনের বিচার দাবি করেছেন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। নৈশপ্রহরীর নিয়োগ না দেওয়ায় বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে হাল চাষ করেছে নিয়োগ বঞ্চিতরা।
এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ কয়েকজনের নাম উল্লেখ্য করে ডিমলা থানায় মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে। অভিভাবক সদস্য ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ গোলাম মোস্তফা (হিট্টু), মোঃ ওসমান গনি, মোঃ শফিকুল ইসলাম, মোছাঃ শরিফা বেগম, মোছাঃ নাজমা বেগম, মোছাঃ নাছিমা বেগম, মোঃ মোস্তফা ইসলামসহ স্থানীয়রা জানান, ১৯৪৫ সালে স্থাপিত হয় স্কুলটি।
এরপর ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে স্কুলটিতে পাঁকা ভবন নির্মাণ হয়। বর্তমানে একজন মহিলাসহ শিক্ষকের সংখ্যা চারজন। ১০৭ জন ছাত্র-ছাত্রী অত্র প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত। স্কুলের জমির পরিমান ৫০ শতক। স্থানীয় দাতা মৌলভী মোহাম্মদ আলী ও আবুল হোসেন উভয়ের পিতা ভুল্ল মামুদ, ১৮০৯ দাগে ১৯ মধ্যে ০৮ শতক, ১৮০৬ দাগে ৫৪ মধ্যে ১১ শতক, ১৭৩৬ দাগে ১৪ মধ্যে ১০ শতক, ১৮১০ দাগে ০৬ মধ্যে ০৪ শতক দুইজনে সর্বমোট ৩৩ শতক জমি দান করেন।
অপরদিকে কছির উদ্দিন পিতা মৃত মৌলভী আহাম্মাদ আলী ১৭৩৭ দাগে ১৭ শতক জমিসহ সর্বমোট ৫০ শতক জমি দান করেন ৩ দাতা সদস্য। এর পর থেকেই সম্পূর্ণ জমি ব্যবহার করে আসছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলে জমি দাতার ভাই আজগর আলীর ছেলে আনিসুর রহমানকে সরকারি বিধি অনুসারে ২০১৭ সালে অত্র স্কুলে নৈশপ্রহরী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
পরবর্তীকালে ২০১৮ সালে আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে তার প্রথম স্ত্রী নীলফামারী শিশু ও নারী নির্যাতন আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাজনিত জটিলতায় সরকারি বিধি অনুসারে আনিসুর রহমানকে চাকরীচ্যুত করে যথাযথ কর্তৃপক্ষ।
এরপর আনিসুর রহমানের পুরো পরিবার শিক্ষকসহ প্রতিষ্ঠানটি উপর ক্ষিপ্ত হন। এ কারণেই বিভিন্ন সময় শিক্ষকসহ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নামে-বেনামে একাধিক জায়গায় বিভিন্ন দরখাস্ত দাখিল করেন। হঠাৎ করে ট্রাক্টর দিয়ে স্কুল ভবনের খেলার মাঠটি সম্পূর্ণ চাষাবাদ করেন এবং ফসল ফলানোর জন্য তৈরি করেন।
এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক নবাব আলী জানান, যেহেতু প্রতিষ্ঠানটি সরকারি এটি কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার দাস জানান, আমি ঘটনাটি শুনেছি সেটি স্কুলের জমি যারা এই কাজটি করেছেন তারা ঠিক করেননি। দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তারিকুল ইসলাম সোহাগ/বার্তা বাজার/এসবি