অবশেষে গোপনে বাংলাদেশের এনআইডি নিচ্ছেন সন্তু লারমা

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি সাবেক গেরিলা নেতা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) গোপনে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করেছেন।

৭৭ বছর বয়সী সন্তু লারমা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করেননি। এমনকি বাংলাদেশের জাতীয় কোনো অনুষ্ঠানেও তিনি অংশ নেননি।

তবে এবার মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে তাকে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করতে হচ্ছে। কারণ জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া করোনার টিকা নিতে পারছিলেন না সন্তু লারমা। এমনকি বিদেশ ভ্রমণসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজে আটকে যাচ্ছিলেন তিনি।

টিকা নেওয়া ও এসব ঝামেলা থেকে মুক্তির জন্য ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও নিজেকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করালেন তিনি।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, কঠোর গোপনীয়তায় গত ২৯ আগস্ট রাঙামাটি জেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করেছেন তিনি। জাতীয় পরিচয়পত্রে অন্তর্ভুক্তির জন্য ছবি তোলাসহ আনুসাঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করেছেন তিনি।

সূত্রটি আরও জানায়, নির্বাচন কমিশন অফিসে কঠোর গোপনীয়তা ও কড়া নিরাপত্তায় তার ভোটার হওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় করোনার টিকা নিতে না পারার কারণে তিনি এ আবেদন করেছেন বলে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার একটি প্রভাবশালী সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের নিজ বাড়িতে নিয়ে এ কার্যক্রম শেষ করতে চেয়েছিলেন সন্তু লারমা। কিন্তু এটা টেকনিক্যালি সম্ভব নয় বলে জেলা নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে জানানো হয়। পরে গোপনে নির্বাচন কমিশন অফিসে গিয়ে ভোটার হওয়ার আবেদন করেন তিনি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাঙামাটি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শফিকুর রহমান বলেন, ফেব্রুয়ারিতে আমাকে ফোন করে তিনি (সন্তু লারমা) ভোটার হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেসময় নির্বাচন থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

তবে গোপনীয়তার কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে যে কেউ বৈধ কাগজপত্র নিয়ে আমাদের কাছে এলে তাকেই আমরা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করবো এটাই স্বাভাবিক।

জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আবেদনের ব্যাপারে সন্তু লারমার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, সন্তু লারমা ১৯৯৭ সালে সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। এরপর সরকার তাকে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেন। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় রাষ্ট্রীয় সব সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেন তিনি। তবে কখনোই বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করেননি এবং ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি।

বার্তা বাজার/নব

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর