মোঃ রায়হান চৌধুরী, জাবি প্রতিনিধি : তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের মধ্যে বটতলা এলাকায় সংঘর্ষ ঘটে। এতে প্রক্টরিয়াল টিম, পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত ৭০ জন আহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বটতলার একটি দোকানে বঙ্গবন্ধু হলের দ্বীপ বিশ্বাস (নাটক ও নাট্যতত্ত্ব, ৪৬ ব্যাচ) ও তার বন্ধু আলিফ আফসান দ্বীপ (বাংলা, ৪৬ ব্যাচ) মিষ্টি খাওয়ার সময় মওলানা ভাসানী হলের সৌরভ কাপালীর (ম্যানেজমেন্ট, ৪৫ ব্যাচ) সাথে ধাক্কা লাগে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে কাপালি দ্বীপ বিশ্বাসকে মারধর করে। পরবর্তীতে তারা হলের সিনিয়রদের জানালে দুই হলের শিক্ষার্থীরা পিস্তল, রামদা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। যা পরবর্তীতে রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। এসময় উভয় হলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। এ সময় দুগ্রুপের মধ্যে অন্তত ১০ রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়।
প্রায় দুই ঘন্টা যাবৎ চলা এ সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে সহকারি প্রক্টর পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক মহিবুর রউফ শৈবাল ও ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মেহেদী ইকবাল আহত হন।পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ইটের আঘাতে এক পুলিশ সদস্য আহত হন। তাছাড়া আহত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও প্রায় ৭০ জন।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান জানান,‘পুলিশের সহযোগীতায় আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে সক্ষম হয়েছি। পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হওয়া পর্যন্ত বটতলা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন থাকবে।’
তবে সত্যি কথা হলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেও এখনো সেখানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোন মুহূর্তে আবার জাহাঙ্গীরনগর রণক্ষেত্র পরিণত হতে পারে।