খাদ্য বান্ধব কর্মসূচিতে নিম্নমানের চাল, তদন্ত কমিটি গঠন
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় খাদ্য গুদাম থেকে এক ডিলারের অনুকূলে ১১০ বস্তা নিম্নমানের চাল সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ওই চাল পরিবর্তন করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর দূর্যোগকালীন সময়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানীয় ডিলারের মাধ্যমে সরকার ১০টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ করেন। একজন কার্ডধারী কষ্টে উপার্জনের ৩০০ টাকা দিয়ে ৩০ কেজি চাল সংগ্রহ করেন। আলফাডাঙ্গা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ১২জন ডিলারের মাধ্যমে ৫ হাজার ৩৬৮ জন হতদরিদ্র উপকারভোগী কার্ডধারীকে ১৬১.০৪ মে.টন চাল প্রতিমাসে বরাদ্দ দেওয়া হয়। বছরের ৫ মাস এ চাল বিতরণ করা হয়।
গত শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ৪,৫,৬ (সাবেক ২ নম্বর ওয়ার্ড) ওয়ার্ডের শৈলমারি বাজারের ডিলার শরিফুল ইসলাম পলাশ উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে ১১০ বস্তা ( ৩ হাজার ৩০০ কেজি) চাউল সংগ্রহ করেন। রবিবার সেই চাউল হতদরিদ্র কার্ড ধারীদের মাঝে বিতরণ করতে গেলে নিম্নমানের চাউল (দীর্ঘদিনের পুরনো, পঁচা ও পোকা ধরা নষ্ট চাল) দেখতে পেয়ে ওই ডিলার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদুল হাসানকে বিষয়টি অবগত করেন।
উপজেলা চেয়ারম্যান তাৎক্ষণিক চাল বিতরণ করার বন্ধের নির্দেশ দেন। এরপর সোমবার উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ এলাহী ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্তে নিম্নমানের চাল প্রতীয়মান হওয়ায় অবতরণকৃত ১১০ বস্তা চাল জব্দ করে খাদ্যগুদামে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে ওই দিনই খাদ্যগুদাম থেকে ভালোমানের সমপরিমাণ চাল ডিলারের অনুকূলে সরবরাহ করার ব্যবস্থা করেন তারা।
এদিকে নিম্নমানের চাল বিতরণের ঘটনায় অধিকতর তদন্তের জন্য উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা রাহাত ইসলামকে আহবায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কাজী দেলোয়ার হোসেন, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, উপজেলা বন কর্মকর্তা লিটন মিয়া ও উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা সোহানুর রহমান। তদন্ত কমিটিকে আগামী পরিষদ সভায় প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে ডিলার শরিফুল ইসলাম পলাশ জানান, ‘আমি খাদ্য গুদাম থেকে চাল এনে কার্ড ধারীদের মাঝে বিতরণ করতে গেলে খাবারের অনুপযোগী চাল দেখি। এরপর উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও’র মাধ্যমে সেই চাউল পরিবর্তন করে ভালো মানের চাউল সরবরাহ করেছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিম্নমানের চাল দেওয়ার কথা অস্বীকার করে উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জানান, ‘ দীর্ঘদিন চাউল গুদামজাত থাকায় কিছুটা রং পরিবর্তন হয়েছিলো।
এরপর উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএন’র নির্দেশে সেই চাল পরিবর্তন করে ভালো চাল হয়েছে। পরিবর্তনকৃত চাল কি করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমরা চাল সংগ্রহ করি। সেই চাল যেখান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল সেখানে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে চালগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন সেই নাম জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ এলাহী বার্তা বাজার’কে জানান, ‘নিম্নমানের চাল বিতরণের খবর পেয়ে আমি ও উপজেলা চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। এরপর প্রাথমিক পর্যায়ে সত্যতা পেলে সেই চাউল পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে এঘটনার অধিকতর তদন্তের জন্য একটি ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদুল হাসান বার্তা বাজার’কে জানান, ‘নিম্নমানের চাল দেখতে পেয়ে ডিলার আমাকে বিষয়টি অবগত করলে তাৎক্ষণিকভাবে চাল বিতরণ বন্ধ করতে বলি।
এরপর আমি ও ইউএনও সরজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা দেখতে পাই। পরে সেইসব চাল পরিবর্তন করে ভালো মানের চাল দেওয়া হয়েছে। হতদরিদ্রদের চাল বিতরণে কেউ কোন অনিয়ম করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।
মিয়া রাকিবুল/বার্তা বাজার/টি